কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ঢাকা ও আস্তানায় স্থায়ী কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্যে পৌঁছান দুই নেতা।
বুধবার (২৪শে জুন ) চীনের তিয়ানজিনে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্রীষ্মকালীন দাভোস’ সম্মেলনের সাইডলাইনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠক আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করার বিষয়েও আলোচনা করেন। বিশেষ করে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি বিনিময় এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়।
কাজাখস্তানের প্রধানমন্ত্রী ওলজাস বেকতেনভ বলেন, বাংলাদেশ ও কাজাখস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের আহ্বান জানান।
বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল অবকাঠামো, প্রযুক্তি, কৃষি ব্যবসা এবং খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট খাতে যৌথ বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন দুই নেতা।
এ ছাড়া জাতিসংঘের অধীনে পানি কূটনীতি (ওয়াটার ডিপ্লোমেসি) বিষয়ক একটি বিশেষায়িত সংস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজাখস্তানের প্রস্তাবের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী বেকতেনভ। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ উদ্যোগের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্য এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতি কাজাখস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদার হলে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং শ্রমবাজার সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। সাম্প্রতিক বৈঠক সেই সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।