সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের একটি অংশে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী, সচেতন নাগরিক ও সামাজিক মহলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মাঠটির প্রাকৃতিক গ্যালারির সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে নির্মাণকাজ বন্ধ রেখে বিকল্প সমাধানের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের (পিএইচজি) মাঠের পশ্চিম পাশে অবস্থিত হেডমাস্টারের টিলা এলাকায় প্রায় ৮ ফুট উঁচু সীমানা প্রাচীর নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এ প্রাচীর নির্মিত হলে মাঠের পশ্চিম পাশের প্রাকৃতিক গ্যালারির ব্যবহার ও সৌন্দর্য উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
বিয়ানীবাজারের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ হিসেবে পরিচিত। এখানে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ক্রীড়া আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি বড় ধর্মীয় সমাবেশ, ওয়াজ মাহফিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট এবং বিভিন্ন জাতীয় ও সামাজিক কর্মসূচির জন্যও মাঠটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ফলে এটি কেবল একটি ক্রীড়াঙ্গন নয়, বরং উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমের স্থান।
স্থানীয়দের মতে, মাঠটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো চারপাশের প্রাকৃতিক উঁচু ঢাল বা গ্যালারি। দর্শনার্থীরা সেখান থেকে সহজেই খেলা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন। প্রাকৃতিক এই গ্যালারিই মাঠটিকে অন্য অনেক মাঠ থেকে আলাদা করেছে।
জানা যায়, মাঠটির মালিকানা পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হলেও এটি কার্যত পুরো বিয়ানীবাজারবাসীর ব্যবহৃত একটি উন্মুক্ত জনপরিসর। স্থানীয় সমাজহিতৈষী জমিদার পবিত্র নাথ দাস পরিবারের দান করা জমির ওপর মাঠটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সচেতন মহলের দাবি, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন হলে মাঠের নান্দনিকতা অক্ষুণ্ন রেখেও তা করা সম্ভব। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ, স্থানীয় জনগণ, ক্রীড়া সংগঠক, স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প নকশা গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে স্বচ্ছ (ট্রান্সপারেন্ট) নিরাপত্তা বেষ্টনী বা এমন কোনো কাঠামো নির্মাণ করা যেতে পারে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি প্রাকৃতিক গ্যালারি ও মাঠের সৌন্দর্যও অক্ষুণ্ন থাকে।
স্থানীয়দের দাবি, যেকোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের আগে জনমত, মাঠের ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ ব্যবহার বিবেচনায় নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তারা নির্মাণকাজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।