সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভুয়া চাকরির বিজ্ঞাপন এবং অনলাইন অপরাধী চক্রের মাধ্যমে মানবপাচারের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর এই নতুন বাস্তবতায় মানবপাচার প্রতিরোধে সরকারি সংস্থা, টেলিযোগাযোগ খাত এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর মধ্যে আরও শক্তিশালী সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ডিয়েপাক এলমার।
বিশ্ব মানবপাচারবিরোধী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০শে জুলাই) ঢাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল “ট্রাপড বিহাইন্ড দ্য স্ক্যাম”। প্রতিপাদ্যে তুলে ধরা হয়েছে, প্রতারণার আড়ালে কীভাবে মানুষ মানবপাচারের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে ভুয়া বিদেশে চাকরির প্রলোভন, অনলাইন নিয়োগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণামূলক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক সাইবার অপরাধী নেটওয়ার্ক এখন মানবপাচারের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
ডিয়েপাক এলমার বলেন, মানবপাচারের ধরন বদলে যাওয়ায় প্রতিরোধ কৌশলও পরিবর্তন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান, ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। এতে প্রতারণামূলক কার্যক্রম প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের অভিজ্ঞতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় কার্যকর নীতি প্রণয়নে সহায়তা করতে পারে।
অনুষ্ঠানে মানবপাচার প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। সুইজারল্যান্ড সরকার জানায়, আশ্বাস প্রকল্পের মাধ্যমে তারা বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধ, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং মানবপাচারের নতুন কৌশল মোকাবিলায় সহায়তা অব্যাহত রাখবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে উইনরক ইন্টারন্যাশনাল।
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ এশিয়ায় মানবপাচারের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা ও সাইবার স্ক্যাম বৃদ্ধি পাওয়ায় মানবপাচারের কৌশলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। অপরাধী চক্রগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, এনক্রিপটেড মেসেজিং অ্যাপ এবং ভুয়া নিয়োগ ওয়েবসাইট ব্যবহার করে মানুষকে বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখায়। পরে অনেককে জোরপূর্বক শ্রম, অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র বা অন্যান্য শোষণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবপাচার মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়। জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ অভিবাসন ব্যবস্থা, ডিজিটাল নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগই প্রযুক্তিনির্ভর মানবপাচারের নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।