চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ওয়াং ই এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সোমবার (২২শে জুন) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, সীমান্ত পরিস্থিতি, বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে ওয়াং ই বলেন, ভারত চীনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ এবং দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের ধারায় ফিরে এসেছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা চীন ও ভারতকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। এই রাজনৈতিক ঐকমত্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীল ও সুস্থ বিকাশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত ভিত্তি তৈরি করেছে।
ওয়াং ই বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দুই অর্থনীতি হিসেবে চীন ও ভারতের উচিত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সম্পর্ক মূল্যায়ন করা এবং বৈশ্বিক পরিসরে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও গভীর করা। তিনি বলেন, চীন ও ভারতসহ বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো বর্তমানে সম্মিলিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।
ব্রিকস জোটের বর্তমান ঘূর্ণায়মান চেয়ার হিসেবে ভারতের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ব্রিকস ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বেইজিং।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, উভয় দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হয়েছে, সহযোগিতা এগিয়েছে এবং সীমান্ত অঞ্চলে সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি বজায় রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের উচিত পরস্পরের মূল স্বার্থকে সম্মান করা এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা। একই সঙ্গে সীমান্ত ইস্যুকে এমনভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানান যাতে তা সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।
ওয়াং ই বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগ, গণমাধ্যম এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংলাপ ও বিনিময় পুনরায় জোরদারেরও আহ্বান জানান।
অন্যদিকে অজিত দোভাল বলেন, ভারত কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্যায়ন অব্যাহত রাখতে চায় এবং দুই দেশের নেতাদের অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়নে বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
দোভাল বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি হিসেবে তাইওয়ান প্রশ্নে ভারতের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি আরও জানান, ভারত চীনের সঙ্গে একে অপরের মূল স্বার্থকে সম্মান করা, বহুপাক্ষিকতা রক্ষা করা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।
বৈঠকে উভয় পক্ষ আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও মতবিনিময় করে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত উত্তেজনা ও রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে চীন-ভারত সম্পর্ক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে সংলাপ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।