
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য নাশকতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সরকার ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সোমবার (২২শে জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর সেনাসদস্যরা সংশ্লিষ্ট এলাকায় দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তারা আগামী ৩০শে জুন পর্যন্ত মাঠে থাকবেন।
সরকারের দাবি, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন স্থানে মিছিল, সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এসব কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, নাশকতা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বিভিন্ন জেলায় সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে। এ কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার ব্যাপক আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারান। পরে তিনি ভারতে আশ্রয় নেন। আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা গ্রেপ্তার হন। অনেকে দেশ ছেড়ে চলে যান। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। সেই নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে।
বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের যেকোনো রাজনৈতিক তৎপরতাকে আইন লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছে। অন্যদিকে দলটির সমর্থকেরা বলছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার থাকা উচিত। ফলে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে দুই পক্ষের অবস্থান স্পষ্টভাবে মুখোমুখি হয়ে পড়েছে।
সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্তটি আরও বেশি আলোচনায় এসেছে একটি বিশেষ কারণে। গত ১৫ই জুন সারাদেশ থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হয়েছিল। এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিল। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার সেনাবাহিনী মোতায়েন করায় রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের উদ্বেগের ইঙ্গিত বহন করে।
এদিকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। গত বছরের নভেম্বরে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়নের মামলার রায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। শেখ হাসিনা ওই রায় প্রত্যাখ্যান করে একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।
একসময়ের দেশের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ বর্তমানে কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নেতৃত্বের শূন্যতা, সাংগঠনিক নিষেধাজ্ঞা এবং আইনি চাপ দলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।