বর্ষার স্নিগ্ধ আবহ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান, কবিতা, আবৃত্তি এবং নজরুলচর্চার প্রতি শ্রদ্ধা—সব মিলিয়ে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হলো এক প্রাণবন্ত বর্ষা মঙ্গল উৎসব। অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি নজরুল সাহিত্যে অবদানের জন্য জাতীয় নজরুল পুরস্কারপ্রাপ্ত গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরীকে সংবর্ধনা জানানো হয়।
রবিবার (২৬শে জুলাই) সন্ধ্যায় কুমিল্লা ফরিদা বিদ্যায়তনে জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার উদ্যোগে “আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদর দিনে” প্রতিপাদ্যে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, শিল্পী, শিক্ষক, চিকিৎসক, আইনজীবী, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের ২০২৫ সালের নজরুল পুরস্কারপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. আলী হোসেন চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে মিলনায়তন।
সংবর্ধনার জবাবে ড. আলী হোসেন চৌধুরী বলেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি মানুষের আত্মপরিচয়ের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাঁর ভাষায়, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের সাহিত্য ও দর্শনের চর্চা যত বিস্তৃত হবে, সমাজ তত বেশি মানবিক ও আলোকিত হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লালমাই ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. শফিকুর রহমান, উদীচী কুমিল্লার সভাপতি শেখ ফরিদ এবং কবি অমৃত লাল দত্ত। বক্তারা বলেন, সাংস্কৃতিক চর্চা কেবল বিনোদনের বিষয় নয়; এটি একটি জাতির মূল্যবোধ, মনন ও আত্মিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
আয়োজনে আবৃত্তি পরিবেশন করেন অনুশ্রী, আদ্রীতাসহ কয়েকজন আবৃত্তিশিল্পী। সংগীত পরিবেশন করেন নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডা. হারুনুর রশীদ এবং অন্যান্য শিল্পী। রবীন্দ্রসংগীত ও বর্ষার গান দর্শকদের মুগ্ধ করে।
জাতীয় রবীন্দ্রসংগীত সম্মিলন পরিষদ, কুমিল্লা জেলা শাখার কর্ণধার প্রফেসর নিখিল রায়ের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের মতে, বর্ষা মঙ্গলের মতো সাংস্কৃতিক আয়োজন নতুন প্রজন্মকে বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে পরিচিত করার পাশাপাশি সমাজে মানবিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রাণচাঞ্চল্যেরই প্রতিফলন।