প্রাণ-প্রকৃতি ও পরিবেশের সুরক্ষা এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সহাবস্থানের পথ অনুসন্ধানের প্রত্যয় নিয়ে প্রথম বর্ষপূর্তি উদ্যাপন করেছে ‘প্রাকৃত সমাজ’। এ উপলক্ষে ঢাকার পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্রে দিনব্যাপী ‘প্রাকৃত সমাজের আলাপ ও গান’ আয়োজন করা হয়।
শনিবার (২২শে আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলে এই আয়োজন। বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আলোচনা, সংগীত পরিবেশনা এবং ‘প্রাকৃত’ সাময়িকীর প্রথম সংখ্যার উন্মোচন করা হয়।
আয়োজনটি উৎসর্গ করা হয় সদ্য প্রয়াত রণজিৎ বাওয়ালীকে। ‘প্রাকৃতজন’ হিসেবে তিনি প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। আমৃত্যু তিনি প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
দিনব্যাপী ‘প্রাকৃত সমাজের আলাপ’ পর্বে চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে ছিল—‘ভূমির ব্যক্তিগত মালিকানা বহাল রেখে সকল প্রাণের সহাবস্থান কিভাবে সম্ভব?’, ‘সকল প্রাণের মঙ্গলজনক চিকিৎসা পদ্ধতি ও ব্যবস্থা’, ‘শিক্ষা ব্যবস্থা: আত্মপ্রকৃতির সন্ধান’ এবং ‘জাতীয় পর্যায়ে পরিবেশ ও স্বাস্থ্যবান্ধব কৃষি চর্চা: সংকট ও সম্ভাব্য সমাধান’।
আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, খন্দকার নিয়াজ রহমান, পাভেল পার্থ, অধ্যাপক ডা. হারুন-অর-রশিদ, ডা. সুমন কে বিশ্বাস, ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান, ড. সামিনা লুৎফা, কৃষিবিদ মো. মাহমুদ হোসেন, ড. মোহাম্মদ নাজিমউদ্দিন ও দেলোয়ার জাহান। বিভিন্ন পর্ব সঞ্চালনা করেন মুসা কলিম মুকুল, আয়ুর্বেদাচার্য দেবজ্যোতি দত্ত ও মো. ইফতেখার আলী।
আলোচনার পাশাপাশি ছিল সংগীতের আয়োজন। ‘প্রাকৃত সমাজের গান’ পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন অরূপ রাহী, মুসা কলিম মুকুল ও কুয়াশা মূর্খ।
আয়োজকদের বক্তব্য ও অনুষ্ঠানের আলোচনায় একটি মৌলিক ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। পৃথিবী শুধু মানুষের জন্য নয়। মানুষসহ সব প্রাণেরই এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারকে স্বীকার করে মানুষ ও অন্যান্য প্রাণের সহাবস্থানের পথ তৈরি করাই ‘প্রাকৃত সমাজ’-এর অন্যতম লক্ষ্য।
প্রকৃতি রক্ষা শুধু পরিবেশগত কোনো বিচ্ছিন্ন কর্মসূচি নয়। এর সঙ্গে ভূমি, কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানুষের জীবনযাপনের সম্পর্ক রয়েছে। তাই এসব ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আয়োজনে।
প্রথম বর্ষপূর্তির আয়োজনের মধ্য দিয়ে ‘প্রাকৃত সমাজ’ প্রাণ-প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের পারস্পরিক সহাবস্থানকে বাস্তব কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে কাজ আরও বিস্তৃত করার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
‘প্রাকৃত সমাজ’-এর এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রকৃতি ও সব প্রাণের প্রতি দায়িত্বশীল হলে সেই পরিবর্তনের পথে এগোনো সম্ভব। মানুষের পাশাপাশি অন্য সব প্রাণের বেঁচে থাকার অধিকারকে স্বীকার করাই হতে পারে সেই যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।