যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমার পদত্যাগ করেছেন। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক নির্বাচনী জয়ের মাত্র দুই বছরের মধ্যে তার এই বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
স্টারমার ২০২৪ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে ক্ষমতায় ফেরান। ১৪ বছর পর দলটি সরকার গঠন করে। কনজারভেটিভ পার্টির ঋষি সুনাককে পরাজিত করে স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করেন।
নির্বাচনী প্রচারে স্টারমারের মূল বার্তা ছিল ‘পরিবর্তন’। অর্থনৈতিক সংকট, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা সংকট এবং সরকারি সেবার দুর্বলতা মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। তবে ক্ষমতায় আসার পর দ্রুতই তার জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্টারমারের সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল জনগণের কাছে সরকারের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা তুলে ধরতে না পারা। রয়টার্স তার বিদায়ী নেতৃত্বকে ‘অপ্রিয়’ ও ‘দিশাহীন’ হিসেবে তুলে ধরেছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ধীরগতি, করনীতি, অভিবাসন ইস্যু এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের সমস্যা নিয়ে সরকার সমালোচনার মুখে পড়ে। দলের ভেতরেও অসন্তোষ বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে লেবার এমপিদের একটি অংশ তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
স্টারমারের পদত্যাগের পর লেবার পার্টিকে নতুন নেতা নির্বাচন করতে হবে। সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহামের নাম আলোচনায় রয়েছে। তিনি আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন।
নতুন নেতৃত্বের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলের জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনা। একই সঙ্গে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকের মতো রাজনৈতিক শক্তিগুলো এই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করবে।
স্টারমারের পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন যুক্তরাজ্য অর্থনীতি, অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে। ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
স্টারমার জানিয়েছেন, নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন এবং ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করবেন।
কেয়ার স্টারমারের বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে আরেকটি দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনা। এটি দেখিয়ে দিল, বড় নির্বাচনী জয় পেলেও জনগণের আস্থা ধরে রাখা এবং প্রতিশ্রুত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।