বাংলাদেশের চলমান সংস্কার কার্যক্রম, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস এবং জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান।
সোমবার (২২শে জুন) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন সংস্কার অগ্রাধিকার নিয়ে মতবিনিময় হয়। বৈঠকে স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান, শক্তিশালী বিচারব্যবস্থা এবং স্থিতিশীল আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় বলা হয়, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের মসৃণ এলডিসি উত্তরণের জন্য এসব খাতে সংস্কার ও সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকে নারীদের কর্মসংস্থানে অংশগ্রহণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। উভয় পক্ষই মত দেন যে, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য শ্রমবাজারে নারীদের আরও বেশি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই সুইডেন দেশটির উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে। ধাত্রীবিদ্যা শিক্ষার উন্নয়ন থেকে শুরু করে বর্তমানে সবুজ অর্থনীতি ও পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের ক্ষেত্রেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি জানান, আগামী দিনেও বাংলাদেশের উন্নয়নযাত্রায় সুইডেন পাশে থাকবে। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, শিল্প স্বয়ংক্রিয়তা (অটোমেশন) এবং উন্নত প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সুইডেন আগ্রহী।
বিশ্লেষকদের মতে, এলডিসি উত্তরণের প্রাক্কালে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়ন বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ প্রেক্ষাপটে সুইডেনের মতো দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতা দেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশ ও সুইডেনের কূটনৈতিক সম্পর্ক পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, টেকসই উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।