নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রখ্যাত নাট্যকার ও গবেষক সেলিম আল দীনকে স্মরণ করে ‘সেলিম আল দীনের সাহিত্যকর্ম’ শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বক্তারা বলেছেন, বাংলা নাট্যসাহিত্যে সেলিম আল দীনের অবদান অনন্য এবং তিনি বাংলা নাটককে একটি স্বতন্ত্র ধারা ও নতুন নাট্যনন্দনের ভিত্তি প্রদান করেছেন।
মঙ্গলবার (১৬ই জুন) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন মিলনায়তনে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা একাডেমি এবং নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির প্রশিক্ষণ উপবিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. আরিফুর রহমান।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নোবিপ্রবির বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুঞ্জু রানী দাস। আলোচনায় অংশ নেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. চন্দন আনোয়ার, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ভক্ত সুপ্রতীম সরকার এবং বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. জাকারিয়া হোসেন।
সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মাসুদ রহমান।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলা নাট্যসাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্রষ্টা সেলিম আল দীন তাঁর রচনার মাধ্যমে দেশের মৃত্তিকালগ্ন ঐতিহ্য, ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রামকে গভীর শিল্পবোধের সঙ্গে তুলে ধরেছেন। তিনি শুধু একজন নাট্যকারই নন, বাংলা নাট্যচর্চার একজন যুগান্তকারী চিন্তকও ছিলেন।
বক্তারা আরও বলেন, সেলিম আল দীনের নাটকে লোকবাংলার জনজীবন, মানবিক মূল্যবোধ এবং জাতিসত্তার অনুসন্ধান বিশেষভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলা নাটকের নিজস্ব ভাষা ও আঙ্গিক নির্মাণে তাঁর অবদান নতুন প্রজন্মের জন্যও প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
আলোচকরা মনে করেন, বাংলা নাট্যসাহিত্যের বিকাশ ও সমৃদ্ধিতে সেলিম আল দীনের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁর সাহিত্যকর্ম নিয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা ও চর্চার প্রয়োজন রয়েছে।