সের্গেই লাভরভ
২০২৬ সালের ৭ জুন লন্ডনে এক বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির নেতারা এবং ভ্লাদিমির জেলেনস্কি ইউক্রেনে ‘ন্যায্য ও টেকসই শান্তি’ প্রতিষ্ঠার জন্য রাশিয়ার কাছে পাঁচটি শর্ত তুলে ধরেন। ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ এখন এই দাবিগুলোকেই মস্কোর সাথে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে সামনে রাখছে।
সমষ্টিগত পশ্চিমা বিশ্বের অংশ হিসেবে ইউরোপের সঙ্গে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে আলোচনার অভিজ্ঞতা আমাদের একটি সিদ্ধান্তেই পৌঁছে দেয়। রাশিয়ার সঙ্গে সংলাপকে ব্যবহার করা হয়েছে কেবল একটি কূটনৈতিক আড়াল হিসেবে। এর আড়ালে পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ধীরে ধীরে নিজেদের প্রভাব রাশিয়ার সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে।
ইউক্রেন সংকট উসকে দেওয়ার ক্ষেত্রে ইউরোপের যোগসাজশের বিষয়টি অস্বীকার করার উপায় নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে ইউরোপের দেশগুলোই ২০০৪ সালে কিয়েভে ‘কমলা বিপ্লব’ ঘটিয়েছিল। ইউক্রেনকে রাশিয়াবিরোধী একটি ঘাঁটিতে পরিণত করতে তারা বছরের পর বছর রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলগুলোকে প্রভাবিত করেছে। ইতিহাসের পাঠ্যবই বদলেছে, শিক্ষাব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজিয়েছে, ইউক্রেনীয় জাতীয়তাবাদকে লালন করেছে এবং ইউক্রেনকে রাশিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালিয়েছে।
২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সহযোগিতা চুক্তি নিয়ে আমরা একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু ব্রাসেলস তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই তারা ভিক্টর ইয়ানুকোভিচকে ওই চুক্তিতে সই করতে চাপ দিচ্ছিল।
মনে রাখা দরকার, ইউক্রেনকে এমন একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল যাতে তাদের বাজার একতরফাভাবে খুলে দিতে হতো, কিন্তু বিপরীতে ইউরোপের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকত না। এই শর্তগুলো ইউক্রেনের জন্য সিআইএস মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের সদস্যপদ বজায় রাখার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
যখন ভিক্টর ইয়ানুকোভিচ কিছু সময় চাইলেন, তখন ইউরোপপন্থী শক্তিগুলো রাস্তায় বিক্ষোভ উসকে দেয়। সেই বিক্ষোভ দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয় এবং ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে কিয়েভে সরকার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
এরপর জার্মানি, ফ্রান্স ও পোল্যান্ডও নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা হারায়। বিরোধী দল ও ইয়ানুকোভিচের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছিল, তারা তার গ্যারান্টর ছিল। কিন্তু সেই বিরোধী দল ক্ষমতায় আসার পর তারা মুহূর্তের মধ্যে নিজেদের দায় ঝেড়ে ফেলে। তাদের বক্তব্য ছিল, ‘গণতন্ত্র অনেক সময় অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়।’
এরপর ইউরোপ নতুন সরকারের প্রতি সমর্থন জানায়।
২০১৪ সালের ২ মে ওডেসায় রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে বহু নিরীহ মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়। কিন্তু ইউরোপের কোনো রাজধানী থেকেই এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে একটি শব্দও শোনা যায়নি।
২০১৫ সালের মিনস্ক চুক্তির সহ-গ্যারান্টর হিসেবে ফ্রান্স ও জার্মানির দায়িত্ব ছিল শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা। কিন্তু বাস্তবে তারা ইউক্রেন সরকারকে নিজেদের অঙ্গীকার থেকে সরে যেতে উৎসাহ দিয়েছে।
পরে, বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর, অ্যাঙ্গেলা মেরকেল ও ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ স্বীকার করেন যে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে মিনস্ক চুক্তি বাস্তবায়নের কোনো প্রকৃত ইচ্ছাই ছিল না। অথচ এই চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সর্বসম্মত অনুমোদন পেয়েছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসল উদ্দেশ্য ছিল সময় কেনা—ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করা এবং পশ্চিমা অস্ত্রে সজ্জিত করা।
অন্যদিকে, ইউরোপের নিরাপত্তা সংকট কমাতে রাশিয়া সব ধরনের কূটনৈতিক পথ খোলা রেখেছিল। কিন্তু ২০২২ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো পারস্পরিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা সংক্রান্ত রাশিয়ার আইনগত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ন্যাটোভুক্ত ইউরোপীয় দেশগুলোও সেই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।
বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর ব্রিটেনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্তাম্বুল আলোচনাকে ব্যর্থ করার উদ্যোগ নেন। ঐক্যবদ্ধ ইউরোপও তাকে সমর্থন দেয়।
বরিস জনসন কিয়েভকে বলেছিলেন, ‘কোনো কিছুর ওপর সই করো না, লড়াই চালিয়ে যাও।’
তার এই আহ্বানের ফলে কার্যকর কূটনৈতিক সমাধানের দরজা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে, ইউরোপীয় নেতারা হঠাৎ করে আলোচনার কথা বলতে শুরু করলেন কেন? তাদের প্রকৃত লক্ষ্য কী?
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কালাস বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যে কোনো সংলাপের উদ্দেশ্য হলো ইউরোপের শর্ত চাপিয়ে দেওয়া।
এই শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—ইউক্রেনকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, ট্রান্সনিস্ট্রিয়া ও দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চল থেকে রুশ সেনা প্রত্যাহার, ‘বিদেশি এজেন্ট’ আইন বাতিল এবং রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর আকারের ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়া।
তার মতে, ‘রাশিয়ার জবাবদিহি নিশ্চিত না করে কোনো ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি সম্ভব নয়।’
২০২৬ সালের ১৯ মে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একজন প্রতিনিধি আরও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়া শান্তির পথে বাধা নয়। বরং বিশ্বাসযোগ্য ও আন্তরিক আলোচনার জন্য এটিই অপরিহার্য পূর্বশর্ত।
ইউরোপের পরিকল্পনা হলো, একদিকে রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালানো, অন্যদিকে ইউরোপ কাউন্সিলের মাধ্যমে আইনি চাপ সৃষ্টি করা।
একসময় সম্মানিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এই সংস্থার ভেতরে এখন রাশিয়াকে ‘জবাবদিহির আওতায়’ আনার জন্য আলাদা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষয়ক্ষতির নিবন্ধন ব্যবস্থা, দাবি কমিশন এবং একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।
এদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করার অনুমতিও দিয়েছে। বাল্টিক সাগর ও আটলান্টিক মহাসাগরে এরই মধ্যে কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে কৃষ্ণসাগর ও ভূমধ্যসাগরে ইউক্রেনীয় বাহিনীর কথিত নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের দিকে পশ্চিমা দেশগুলো চোখ বন্ধ করে রেখেছে।
ইউরোপীয় নেতাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা নয়। তাদের লক্ষ্য হলো জেলেনস্কি সরকারকে টিকিয়ে রাখা এবং ভবিষ্যতেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে একটি অগ্রবর্তী ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করা।
এই কারণেই তারা দ্রুত যুদ্ধবিরতি চায়। তাদের আশঙ্কা, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীর অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
পরিকল্পনা হলো সংঘাতকে সাময়িকভাবে ‘স্থগিত’ রাখা, কিন্তু এর মূল কারণগুলো অমীমাংসিত রেখে দেওয়া। এরপর অ্যাংলো-ফরাসি ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর সেনা সদস্যদের দ্রুত ইউক্রেনের মাটিতে মোতায়েন করা।
ইউরোপের রাজনৈতিক অভিজাতদের একটি বড় অংশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে এই সংঘাতে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ করেছে। কিয়েভ সরকারকে টিকিয়ে রাখতে তারা শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর সামরিক বাজেটও ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে।
ইউরোপের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি অর্জন করা। ততদিন পর্যন্ত তারা যেকোনো উপায়ে সময় কিনতে চায়।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বেলজিয়ামের সেনাপ্রধান এক বিরল স্পষ্টভাষী মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাতে এখনো কয়েক বছর সময় আছে। ইউক্রেনীয়দের সাহস এবং তাদের রক্ত সেই সময় আমাদের জন্য কিনে দিচ্ছে।’
ঐক্যবদ্ধ ইউরোপ এখনো সম্প্রসারণের স্বপ্ন দেখছে। তারা ইউক্রেন ও মলদোভাকে নিজেদের কাঠামোর ভেতরে নিতে চায়। একই সঙ্গে আর্মেনিয়াকেও নিজেদের প্রভাববলয়ে আনার চেষ্টা করছে।
এদিকে ন্যাটো ইতোমধ্যেই পূর্বদিকে আরও বিস্তৃত হয়েছে। ফিনল্যান্ড ও সুইডেন এখন তার সদস্য।
অন্যদিকে ইউক্রেনকে ক্রমশ এমন একটি ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় সামরিক শক্তির মূল আঘাত হানার বাহিনী হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো—উভয়ের কাছ থেকেই তুলনামূলকভাবে স্বাধীন হবে।
এই পরিস্থিতি বিশ্ব নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করছে।
ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হলে তা খুব দ্রুত পারমাণবিক হামলা-পাল্টা হামলার দিকে গড়াতে পারে। এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।
‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’-এর নামে ইউরোপ বর্তমানে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা দ্রুত বাড়াচ্ছে। এর মধ্যে পারমাণবিক সক্ষমতাও রয়েছে।
ফ্রান্স কয়েকটি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো সদস্য দেশের জন্য নিজেদের তথাকথিত ‘পারমাণবিক ছাতা’ বিস্তৃত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। বিষয়টি গভীর উদ্বেগের কারণ।
এতে ফ্রান্সের নিজের নিরাপত্তা যেমন বাড়বে না, তেমনি যেসব দেশ এই সুরক্ষার আওতায় আসবে, তাদের নিরাপত্তাও প্রকৃত অর্থে শক্তিশালী হবে না।
তবু ইউরোপের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব রাশিয়ার বিরুদ্ধে নানা আগ্রাসী পরিকল্পনার অভিযোগ তুলে চলেছে। তাদের দাবি, ইউক্রেনের বাইরে আরও বিস্তৃত লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া এগোচ্ছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বহুবার বলেছেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। এগুলো বিভ্রান্তি, উসকানি এবং ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার ছাড়া আর কিছু নয়। তার মতে, এসবের একমাত্র উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে আরও বেশি বাজেট বরাদ্দ আদায় করা।
এ ধরনের পরিবেশে অর্থবহ সংলাপ গড়ে ওঠা কঠিন।
আলোচনার প্রশ্নে সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামে ভ্লাদিমির পুতিন আবারও বলেছেন, রাশিয়া কারও সঙ্গে যোগাযোগ বা আলোচনার বিরোধী নয়। তবে ইউরোপকে আমরা এমন একটি পক্ষ হিসেবে দেখি, যারা প্রকাশ্যেই রাশিয়ার পরাজয় চায়। ইউরোপীয় নেতারাও নিজেরা তা অস্বীকার করেন না।
সুতরাং ইউরোপকে নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী ধরে নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করা সম্ভব নয়। রাশিয়া চাইবে বিশেষ সামরিক অভিযানের লক্ষ্যগুলো কূটনৈতিক পথেই অর্জিত হোক। এর জন্য প্রয়োজন রাশিয়ার পশ্চিম সীমান্তে নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা নিশ্চয়তা।
একই সঙ্গে আমাদের নাগরিক ও স্বদেশি জনগোষ্ঠীর সম্মান, মর্যাদা এবং অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে তাদের মাতৃভাষা রুশ ভাষায় কথা বলার অধিকার এবং অর্থোডক্স খ্রিস্টান ধর্ম পালন করার স্বাধীনতা।
পশ্চিমা বিশ্বের আরও সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ গ্রহণযোগ্য নয়। এটি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইউরোপীয় নেতাদের বুঝতে হবে, ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি ফাইনাল অ্যাক্টের পর যে ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল, তা তাদের নিজেদের হাতেই ধ্বংস হয়েছে। এবং সেই পুরোনো কাঠামো আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরবে না।
এখন প্রয়োজন এমন একটি মহাদেশব্যাপী নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যা ইউরেশিয়ার সব দেশের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং বর্তমান বহুমেরুকেন্দ্রিক বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করবে।
ইউরো-আটলান্টিক শক্তিগুলো যে সমান ও অবিভাজ্য নিরাপত্তার নীতিকে দীর্ঘদিন উপেক্ষা করেছে, নতুন ইউরেশীয় নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে সেই নীতিকে বাস্তব রূপ দেওয়া সম্ভব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইউরোপও এই বৃহৎ উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অর্থবহ সংলাপের জন্য বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা জরুরি। শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা বিশ্বের, এবং তার অংশ হিসেবে ইউরোপের, রাশিয়াবিরোধী কর্মকাণ্ড সেই বিশ্বাসকে গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা সম্ভব শুধু বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে। এমন পদক্ষেপ, যা প্রমাণ করবে যে কূটনীতিকে আর সম্প্রসারণবাদী লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে না।
লন্ডনে ২০২৬ সালের ৭ জুন রাশিয়ার সামনে যে আলটিমেটাম বা চূড়ান্ত শর্ত উপস্থাপন করা হয়েছে, তার মাধ্যমে বিশ্বাস পুনর্গঠন সম্ভব নয়। সংলাপও পুনরায় শুরু করা যাবে না।
উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, ২০২৬ সালের ১১ জুন রাশিয়ান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠকে ব্রিটেন, ফ্রান্স এবং জার্মানির রাষ্ট্রদূতরা লন্ডনের সেই আল্টিমেটামকে দৃঢ়ভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৈঠকটি আয়োজনের জন্য তারাই বারবার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল একটিই—লন্ডনে ঘোষিত অবস্থান আবারও রাশিয়ার কাছে তুলে ধরা।