গৃহকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, অধিকার সুরক্ষা এবং সম্মানজনক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ‘বয়স্ক পরিচর্যা (এল্ডারলি কেয়ারগিভিং) প্রশিক্ষণ ল্যাব’ উদ্বোধন করেছে ইউসেপ বাংলাদেশ। ইউসেপ বাংলাদেশের ঢাকা উত্তর অঞ্চলের ব্যবস্থাপনায় এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডা ও অক্সফ্যামের সহযোগিতায় ‘সুনীতি’ প্রকল্পের আওতায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ই জুন) অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার। তিনি ফিতা কেটে প্রশিক্ষণ ল্যাবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ও সাবেক সচিব ড. মো. আব্দুল করিম। এছাড়া ইউসেপ বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অক্সফ্যামের প্রতিনিধিরা, প্রশিক্ষক এবং ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে অক্সফ্যাম ইন বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর তারেক আজিজ ‘সুনীতি’ প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রকল্পের আওতায় ১০০ জন গৃহকর্মীকে বিশেষায়িত বয়স্ক পরিচর্যা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তারা আধুনিক পরিচর্যা পদ্ধতি শিখতে পারবেন এবং শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশে গৃহকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে আসছেন। তাদের অধিকাংশেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই। ফলে দক্ষতা উন্নয়ন, ন্যায্য মজুরি এবং সামাজিক স্বীকৃতির ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষ কেয়ারগিভারের চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে। এই প্রশিক্ষণ সেই চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ল্যাব উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
মো. আব্দুর রহমান তরফদার বলেন, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গৃহকর্মীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তাদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সময়ের দাবি। তিনি বলেন, ‘সুনীতি’ প্রকল্পের এই প্রশিক্ষণ গৃহকর্মীদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।
প্রশিক্ষণার্থী জাকিয়া সুলতানা বলেন, এতদিন তারা কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়াই কাজ করেছেন। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বয়স্ক মানুষের যত্ন নেওয়ার কৌশল শেখার সুযোগ পাচ্ছেন। এতে তাদের দক্ষতা বাড়বে এবং সমাজে মর্যাদার সঙ্গে কাজ করার পথ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানের শেষে প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে গৃহকর্মীরা নিজেদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও আরও বড় অবদান রাখতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গৃহকর্মীদের জন্য বিশেষায়িত কেয়ারগিভিং প্রশিক্ষণ বাংলাদেশে এখনও নতুন উদ্যোগ। তাই ‘সুনীতি’ প্রকল্পের এই প্রশিক্ষণ ল্যাব ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মডেল হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।