দাবার বোর্ডে প্রতিযোগিতা, মঞ্চে বন্ধুত্বের আহ্বান

ঢাকায় অনুষ্ঠিত হলো তৃতীয় মিয়া সুলতান খান দাবা টুর্নামেন্ট। পাকিস্তান হাইকমিশন এবং বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতা দেশের দাবাপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পাকিস্তানের কিংবদন্তি দাবাড়ু ও তিনবারের ব্রিটিশ দাবা চ্যাম্পিয়ন মিয়া সুলতান খানের স্মরণে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন। এছাড়া কূটনীতিক, পেশাজীবী, জাতীয় দাবা খেলোয়াড়, শিক্ষার্থী এবং দাবা অনুরাগীদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০০ জনেরও বেশি প্রতিযোগী টুর্নামেন্টে অংশ নেন, যা বাংলাদেশে দাবা খেলার জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ড. মাহদী আমিন বলেন, ক্রিকেট ও দাবার মতো খেলাধুলা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারে। তিনি টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য পাকিস্তান হাইকমিশন ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ সরকার ও বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি প্রধান অতিথি ড. মাহদী আমিনকে অনুষ্ঠানে সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।

হাইকমিশনার বলেন, খেলাধুলা শুধু প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নয়, এটি মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক গড়ে তোলারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এ ধরনের স্বাস্থ্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক আয়োজন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বন্ধুত্ব, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

অনুষ্ঠানের শেষে ড. মাহদী আমিন এবং হাইকমিশনার ইমরান হায়দার টুর্নামেন্টের বিজয়ী ও শীর্ষস্থান অর্জনকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে সার্টিফিকেট, মেডেল, ট্রফি এবং পুরস্কারের অর্থ বিতরণ করেন।

কূটনৈতিক মহল, দাবা সংগঠক, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে টুর্নামেন্টটি উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীদের ব্যাপক উপস্থিতি আবারও প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশে দাবা শুধু একটি খেলা নয়, বরং ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয় একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ক্রীড়া মাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *