বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ওপেন ইন্টারন্যাশনাল বায়োলজি অলিম্পিয়াড (ওআইবিও) ২০২৬-এ অংশ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। রাশিয়ার সিরিয়াস ফেডারেল টেরিটরিতে ১৫ থেকে ২২ মে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তাসিন মোহাম্মাদ এবং সরকারি হরগঙ্গা কলেজের শিক্ষার্থী রূপকথা রায়। দলের নেতৃত্ব দেন ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)-এর প্রভাষক আফিয়া নওশীন।
অলিম্পিয়াডে তাত্ত্বিক, ব্যবহারিক এবং প্রকল্পভিত্তিক—এই তিনটি ধাপে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তাসিন মোহাম্মাদ ব্যক্তিগতভাবে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন। এটি আন্তর্জাতিক জীববিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া “প্রাকটিক্যাল মেথডস অফ মডার্ণ বোটানি ” শীর্ষক প্রকল্প রাউন্ডে বাংলাদেশ দল ‘প্রজেক্ট উইনার’ স্বীকৃতি অর্জন করে। এই সাফল্যের পেছনে ছিলেন তাসিন মোহাম্মাদ ও রূপকথা রায়।
প্রকল্পটির আওতায় আধুনিক উদ্ভিদবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হয়। এতে মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ, পরিবেশগত তথ্য সংগ্রহ, নমুনা বিশ্লেষণ, ডিএনএ-ভিত্তিক গবেষণা এবং উদ্ভিদের গঠনগত বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অলিম্পিয়াডে অংশ নিয়ে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের বৈজ্ঞানিক দক্ষতা ও গবেষণা সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন। মাঠপর্যায়ের কাজ থেকে শুরু করে আধুনিক পরীক্ষাগারভিত্তিক বিশ্লেষণ পর্যন্ত বিভিন্ন ধাপে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করেন এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এই অর্জন দেশের বিজ্ঞানমনস্ক তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি জীববিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা এবং বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতায় দেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণেই এমন সাফল্য দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার অগ্রযাত্রায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা।