নতুন মধ্যপ্রাচ্য : পুরোনো ব্যবস্থার অবসান, নতুন শক্তির আবির্ভাব

লিম টিয়ান

ইসরায়েলের ডায়াসপোরা অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী আমিচাই চিকলি সম্প্রতি ইসরায়েলের ১০৩ এফএম রেডিওতে “তুরস্ক-কাতার-পাকিস্তান অক্ষ”-এর উত্থান নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। কিন্তু তিনি কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করেননি; বরং একটি বাস্তবতাকে স্বীকার করেছেন। ইতিহাসে প্রায়ই দেখা যায়, প্রতিপক্ষের ভয়ই বড় পরিবর্তনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ইঙ্গিত।

চিকলি যেটিকে উদ্বেগের কারণ হিসেবে দেখছেন, সেটিকে অন্যভাবে দেখা যায়। পুরোনো মধ্যপ্রাচ্য আর আগের জায়গায় নেই। তার জায়গায় এমন একটি নতুন আঞ্চলিক কাঠামো গড়ে উঠছে, যা পশ্চিমা পররাষ্ট্রনীতি-নির্ধারকদের অনেকেই এখনও পুরোপুরি অনুধাবন করতে পারেননি।

এই নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আগের মতো নিরঙ্কুশ নয়। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক আধিপত্যও সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, অঞ্চলের দুই প্রধান শক্তি—ইরান ও তুরস্ক—ক্রমশ নতুন ব্যবস্থার দুই মেরুতে পরিণত হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি। চুক্তিটি এখন স্বাক্ষরিত এবং কার্যকর। ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে অবস্থানকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ডিনারের সময় এতে স্বাক্ষর করেন। একই সময়ে তেহরান থেকে স্বাক্ষর করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান।

তবে চুক্তির বিষয়বস্তুর পাশাপাশি এর পেছনের প্রক্রিয়াটিও গুরুত্বপূর্ণ।

৮ই এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছায়। এই প্রক্রিয়ার কাঠামো গড়ে তোলে পাকিস্তান, কাতার ও তুরস্ক। তিন দেশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও পরস্পর-পরিপূরক ভূমিকা পালন করে।

কাতার ইরানি কর্মকর্তাদের আতিথ্য দেয় এবং যোগাযোগের পথ খোলা রাখে। তুরস্ক ধারাবাহিক কূটনৈতিক সমর্থন দিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান জানায়। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি কার্যকর সেতু হিসেবে কাজ করেন।

এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয়—এই পুরো প্রক্রিয়ায় ইসরায়েল অনুপস্থিত ছিল। শুধু ইসরায়েলই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও সৌদি আরবও কার্যত অনুপস্থিত ছিল, যদিও গত তিন দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে তারাই মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো নিরাপত্তা কাঠামোর প্রধান অংশ ছিল।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেই এই বাস্তবতার ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রায় তিন মাস পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্বীকার করেন যে চুক্তিতে ঠিক কী রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। অঞ্চলের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তির নেতা, যার দেশের অঘোষিত পারমাণবিক সক্ষমতা রয়েছে, তিনি এমন এক আলোচনার দর্শকে পরিণত হন যেখানে অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হয়েছে তাকে ছাড়াই।

জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে “পাগল” বলে অভিহিত করেন এবং মন্তব্য করেন, “আমি না থাকলে ইসরায়েল থাকত না।” এই বক্তব্যে অতিরঞ্জন থাকলেও এর ভেতরে একটি কঠিন সত্য লুকিয়ে আছে—ইসরায়েলের নিরাপত্তা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতার ওপর নির্ভরশীল ছিল, আর সেই পৃষ্ঠপোষকতার ধরন এখন বদলাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক দশক সময় ও বিপুল অর্থ ব্যয় করেছে। সেই ব্যবস্থার ভিত্তি ছিল ইসরায়েলের সামরিক আধিপত্য এবং উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর স্থিতিশীলতা। কিন্তু সেই ব্যবস্থা কোনো সামরিক পরাজয়ের কারণে ভেঙে পড়েনি। বরং এমন কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবর্তিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র নিজে নিয়ন্ত্রণ করেনি এবং যার মূল চালিকাশক্তিও ছিল না।

নতুন যে কাঠামো গড়ে উঠছে, তা কোনো চীনা, রুশ কিংবা অন্য কোনো বহিরাগত শক্তির নেতৃত্বাধীন আঞ্চলিক ব্যবস্থা নয়। বরং এটি স্থানীয় শক্তির ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে নির্মিত একটি নতুন বাস্তবতা।

এই ব্যবস্থার দুই প্রধান মেরু হলো ইরান ও তুরস্ক।

সামরিক সক্ষমতা, জনসংখ্যা, ভূ-কৌশলগত অবস্থান এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনার ক্ষমতা—সব বিবেচনায় এই দুই রাষ্ট্র অন্যদের তুলনায় এগিয়ে।

ইরান তার মিত্র গোষ্ঠী ও রাষ্ট্রীয় সম্পর্কের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইরাক, সিরিয়া, লেবানন ও ইয়েমেনে প্রভাব বজায় রাখে। অন্যদিকে তুরস্ক সিরিয়ায় শক্তি প্রক্ষেপণ করে, ন্যাটো সদস্যপদকে কৌশলগত ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং ক্রমশ অঞ্চলের অন্যতম প্রধান কূটনৈতিক মধ্যস্থতাকারীতে পরিণত হয়েছে।

তবে এটি নিখুঁত অংশীদারত্ব নয়। তুরস্ক ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত প্রতিযোগিতা রয়েছে। তাই এই কাঠামোকে “নিয়ন্ত্রিত দ্বিমেরুতা” বলা বেশি যথাযথ—যেখানে দুই শক্তি কিছু ক্ষেত্রে সহযোগিতা করে, আবার অন্য ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান প্রকাশ্যে বলেছেন, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি পদক্ষেপ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তা তুরস্কের জন্যও নিরাপত্তা-হুমকি হয়ে উঠেছে। তিনি ইসরায়েলকে আঞ্চলিক শান্তির সবচেয়ে বড় বাধা বলেও উল্লেখ করেন।

অন্যদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মস্কোয় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটিকে স্থায়ী ও কাঠামোগত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রূপ দিতে হবে।

এই বক্তব্য থেকেই আঙ্কারার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য স্পষ্ট হয়। তুরস্ক শুধু সংকট ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না; বরং নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার অন্যতম নীতি-নির্ধারক শক্তি হতে চায়।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের সঙ্গে ছয় সপ্তাহের সংঘাতে সামরিক ক্ষতির মুখে পড়লেও ইরান কূটনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক বৈধতা অর্জনের পাশাপাশি সে তার আঞ্চলিক নেটওয়ার্কও অক্ষুণ্ন রাখতে সক্ষম হয়েছে।

পশ্চিমা বিশ্লেষণে প্রায়ই অবমূল্যায়িত হলেও পাকিস্তান হয়তো এই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

পাকিস্তান বিশ্বের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছেন। একই সঙ্গে পাকিস্তান তুরস্ক-কাতার-পাকিস্তান কূটনৈতিক অক্ষেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সম্প্রতি সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর হয়েছে। এর কৌশলগত তাৎপর্য অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।

দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা রয়েছে যে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তা পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ভূমিকা রেখেছিল। জুলফিকার আলী ভুট্টোর “ইসলামিক বোমা” ধারণাও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা-চিন্তার সঙ্গে যুক্ত ছিল।

সাম্প্রতিক সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে অনেক বিশ্লেষক সেই দীর্ঘ নিরাপত্তা সম্পর্কের আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হিসেবে দেখছেন।

এই বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত বিদ্রূপও রয়েছে। যে পাকিস্তানি সামরিক কাঠামোকে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘ সময় ধরে অর্থ ও সহায়তা দিয়েছে, সেই কাঠামোর তৈরি পারমাণবিক সক্ষমতা এখন ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার বাইরে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামোর দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করতে পারে।

লেবানন এই পরিবর্তনের কেবল একটি উপাদান নয়; বরং এটি সবচেয়ে দৃশ্যমান পরীক্ষাক্ষেত্র।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সমালোচকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে নেতানিয়াহু লেবাননকে এমন একটি ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন, যেখানে এখনও তিনি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে এই পরিস্থিতি উল্টো নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার উদ্ভবকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারে।

এরদোয়ানের বক্তব্য—লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি হামলা তুরস্কের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি—একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সংকেত। এটি কার্যত আঞ্চলিক লাল রেখা নির্ধারণের সমতুল্য।

পুরোনো ব্যবস্থায় লেবানন প্রায়ই বড় শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার শিকার হয়েছে। কিন্তু নতুন সমীকরণে দেশটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হতে পারে।

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলোর একটি সামনে এসেছে বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘিরে।

২০২০ সালে তারা আব্রাহাম চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এই ধারণার ভিত্তিতে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী, ইসরায়েলের কৌশলগত অবস্থান অটুট এবং স্বাভাবিকীকরণই নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সেরা পথ।

কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় এই তিনটি অনুমানই চ্যালেঞ্জের মুখে।

বিশ্লেষকদের মতে, এসব দেশ হয়তো প্রকাশ্য অবস্থান বদলাবে না; বরং ধীরে ধীরে কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষার নীতি গ্রহণ করবে। তারা একদিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, অন্যদিকে তুরস্ক ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগও বাড়াবে।

অন্যদিকে ওমান ও কাতার তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করায় নতুন ব্যবস্থায় তাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি।

এই নতুন সমীকরণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র সম্ভবত সৌদি আরব।

ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আঞ্চলিক কৌশল দীর্ঘদিন ধরে তিনটি স্তম্ভের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল—যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, ভিশন ২০৩০-এর অর্থনৈতিক রূপান্তর এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্ভাব্য স্বাভাবিকীকরণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে এই তিনটির অন্তত দুটি নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে।

২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি-ইরান সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের ঘটনা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এখন ইরান, তুরস্ক, পাকিস্তান ও কাতারকে ঘিরে গড়ে ওঠা নতুন সমীকরণ রিয়াদকে আরও গভীর পুনর্বিবেচনার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এই পরিবর্তন আকস্মিকভাবে আসবে না। বরং তা ধীরে ধীরে কূটনৈতিক অবস্থান, বিনিয়োগের প্রবাহ এবং আঞ্চলিক সংকটগুলোর প্রতি সৌদি প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে প্রকাশ পাবে।

আমিচাই চিকলি যেটিকে “তুরস্ক-কাতার-পাকিস্তান অক্ষ” বলে আখ্যা দিয়েছেন, লেখকের মতে সেটি আসলে স্থানীয় শক্তির ভারসাম্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা একটি নতুন মধ্যপ্রাচ্যীয় ব্যবস্থার সূচনা।

এই ব্যবস্থায় ইরান ও তুরস্ক সব বিষয়ে একমত হবে না। তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। কিন্তু অন্তত একটি বিষয়ে তারা অভিন্ন অবস্থানে রয়েছে—বহিরাগত শক্তিনির্ভর পুরোনো আঞ্চলিক ব্যবস্থার পরিবর্তে স্থানীয় শক্তির ভারসাম্যের ওপর দাঁড়ানো নতুন কাঠামো প্রতিষ্ঠা।

পাকিস্তানের পারমাণবিক সক্ষমতা, কাতারের কূটনৈতিক ও আর্থিক ভূমিকা এবং সৌদি আরবের সম্ভাব্য কৌশলগত পুনর্বিন্যাস এই প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

লেখকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য শিক্ষা হলো—এটি শুধু পরাজয়ের প্রশ্ন নয়; বরং এমন একটি বাস্তবতা, যেখানে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে তোলা সম্পর্ক, প্রতিষ্ঠান ও নিরাপত্তা কাঠামো এখন অন্য শক্তিগুলো নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করছে।

বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বিশেষ করে ইসরায়েল—যারা পুরোনো ব্যবস্থার ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভর করেছে—তাদের সামনে এখন নতুন বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চ্যালেঞ্জ।

অন্যদিকে তুরস্ক, ইরান, পাকিস্তান, কাতার এবং সম্ভাব্যভাবে সৌদি আরব—এই রাষ্ট্রগুলোই হয়তো আগামী মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক বিন্যাস নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।

ইতিহাস প্রায়ই তাদের পক্ষ নেয়, যারা পরিবর্তনের স্রোত আগে বুঝতে পারে। প্রশ্ন হলো, নতুন জোয়ারের সঙ্গে কে এগোবে, আর কে পুরোনো তীরে দাঁড়িয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *