আনোয়ার পারভেজ
সাহিত্যের অন্যতম সম্মানজনক পুরস্কার আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার দশম বছরে প্রবেশ করল এক নতুন ইতিহাস রচনা করে। ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতে নিল তাইওয়ানিজ লেখক ইয়াং শুয়াং-জ়ি -এর উপন্যাস ‘তাইওয়ান ট্র্যাভেলোগ’ । চীনা ভাষা (ম্যান্ডারিন) থেকে ইংরেজিতে অনূদিত কোনো বই প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের স্বাদ পেল। লেখক ইয়াং এবং বইটির অনুবাদক লিন কিং —এই প্রথম কোনো তাইওয়ানিজ এবং তাইওয়ানিজ-আমেরিকান হিসেবে এই পুরস্কার জিতলেন।
‘তাইওয়ান ট্র্যাভেলোগ’ মূলত ১৯৩০-এর দশকের জাপান অধিকৃত তাইওয়ানের পটভূমিতে রচিত একটি কাল্পনিক ভ্রমণকাহিনির রূপ ধারণ করে আছে। বইটিকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন এটি ওই সময়কার একটি আবিষ্কৃত ভ্রমণকাহিনি । বইটির দুই প্রধান চরিত্র তাইওয়ান জুড়ে একটি খাদ্য ভ্রমণে বের হয়। বিচারকদের প্যানেল বইটিকে “মোহনীয় এবং পরিমার্জিত” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ইতিমধ্যেই ২০২৪ সালে অনুবাদিত সাহিত্যের জন্য ‘ন্যাশনাল বুক অ্যাওয়ার্ড’ জিতে নেওয়া এই বইটি পাঠকদের ১৯৩০-এর দশকের তাইওয়ানের জটিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জগতে নিয়ে যায়।
বিচারক প্যানেলের সভাপতি নাতাশা ব্রাউন এক বিবৃতিতে বলেন, “‘তাইওয়ান ট্র্যাভেলোগ’ এক অবিশ্বাস্য দ্বৈত সাফল্য অর্জন করেছে। এটি একটি প্রেমের গল্প হিসেবে যেমন সফল, তেমনি একটি তীক্ষ্ণ ঔপনিবেশিক-উত্তর উপন্যাস হিসেবেও সমানভাবে উজ্জ্বল।”
ঔপনিবেশিক ইতিহাসের এক জটিল ও দ্বন্দ্বময় চিত্র ফুটে উঠেছে এই উপন্যাসে। লেখক ইয়াং শুয়াং-জ়ি জানিয়েছেন, তিনি বইটি লেখার পেছনে একটি তুলনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি কাজ করিয়েছেন। তিনি বলেন, “কোরিয়া এবং তাইওয়ান—উভয়ই একসময় জাপানি সাম্রাজ্যের উপনিবেশ ছিল। কিন্তু কোরিয়ানরা সেই ইতিহাসের প্রতি একধরনের তীব্র ক্ষোভ অনুভব করলেও, তাইওয়ানিজরা এটিকে দেখে অনেক বেশি দ্বন্দ্বময় দৃষ্টিতে—একদিকে যেমন বিদ্বেষ, অন্যদিকে তেমনি একধরনের পুরোনো দিনের টান ।” তাইওয়ানের মানুষ অতীতে যে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিল, তা উন্মোচন করা এবং ভবিষ্যতে তাদের কোন পথে এগিয়ে যাওয়া উচিত—তা অন্বেষণ করাই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য।
প্রতি বছর ইংরেজিতে অনূদিত সেরা কল্পকাহিনীকে এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ৫০ হাজার পাউন্ড (প্রায় ৬৭ হাজার মার্কিন ডলার) মূল্যের এই পুরস্কারের অর্থ লেখক এবং অনুবাদকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের দশম বর্ষে ‘তাইওয়ান ট্র্যাভেলোগ’-এর এই জয় কেবল তাইওয়ানিজ সাহিত্যের জন্যই নয়, বরং বিশ্বসাহিত্যে অনূদিত সাহিত্যের গুরুত্ব এবং বৈচিত্র্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল। ম্যান্ডারিন ভাষার গল্প এখন থেকে বিশ্বের মূলধারার সাহিত্যের আলোচনায় আরও গভীরভাবে স্থান করে নেবে বলেই মনে করছেন সাহিত্যপ্রেমীরা।