সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আগামী ১৮ জুন থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ‘নজরুল বর্ষ’-এর উদ্বোধনী কার্যক্রম। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৮ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৭৪টি প্রত্যন্ত ও বিশেষায়িত উপজেলায় একযোগে তিন দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
আজ সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
মন্ত্রী বলেন, গত ২৩শে মে ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মবার্ষিকীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫শে মে ২০২৬ থেকে ২৫শে মে ২০২৭ পর্যন্ত সময়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সেই ঘোষণার আলোকে সারা দেশে বছরব্যাপী নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নজরুল বর্ষ উদযাপনকে কেন্দ্র করে একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে নজরুল বর্ষের জন্য বিশেষ লোগো ও পোস্টার তৈরি, বর্ষপঞ্জি প্রকাশ এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া কবি নজরুলের সাহিত্য, দর্শন ও সঙ্গীত নিয়ে উচ্চতর গবেষণা এবং আর্কাইভ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও দর্শন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও তুলে ধরা হবে।
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা আজও বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নতুন প্রজন্মের কাছে এই মূল্যবোধ পৌঁছে দিতে সরকার কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সময়েও জাতীয় কবির সাহিত্য ও দর্শনের প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নজরুলচর্চা আরও বিস্তৃত করতে চায়।
নজরুল বর্ষের কর্মসূচি সফল করতে দেশের জনগণ, সাংস্কৃতিক সংগঠন, বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী।
সরকারের প্রত্যাশা, বছরব্যাপী এই আয়োজনের মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবিক চেতনা নতুনভাবে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে।