কুমিল্লায় দেশীয় ফল, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির মিলনমেলা

কুমিল্লা নগরীতে দেশীয় ফল, সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতির এক ব্যতিক্রমী আয়োজন হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ‘ফল উৎসব’। কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের উদ্যোগে রবিবার (১৪ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় নগরীর কান্দিরপাড় এলাকার টপ টেন টাওয়ারের দেশপ্রিয় কনভেনশন হলের তৃতীয় তলায় এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলার ঐতিহ্যবাহী মৌসুমি ফলের বৈচিত্র্য, পুষ্টিগুণ এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ আয়োজন করা হয়। উৎসবস্থলে দেশীয় বিভিন্ন ফলের আকর্ষণীয় প্রদর্শনী, নান্দনিক সাজসজ্জা এবং ফলভিত্তিক সচেতনতামূলক উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

অনুষ্ঠানে কুমিল্লার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, সামাজিক সংগঠক ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসব প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বক্তারা বলেন, আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততায় মানুষ ক্রমশ প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো, স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফলাহারের আগে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি বেলায়েত হোসেন কনক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জোটের সাধারণ সম্পাদক আশিক শিশির। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মজিবুর রহমান, কুমিল্লা অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. শরিফুল ইসলাম, অধুনা থিয়েটারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অ্যাডভোকেট শহীদুল হক স্বপন, অধুনা থিয়েটারের সভাপতি অধ্যক্ষ কবীর আহমেদ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস মো. জাকির হোসেন এবং চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব দীপঙ্কর দীপু।

দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়ে আলোচনা করেন চিকিৎসক ডা. অংকুর দত্ত। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ফল উৎসবের সমন্বয়ক আজাদ সরকার লিটন।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে গান পরিবেশন করেন সুপ্রভাত ধর্মসাগর মঞ্চের মুখপাত্র ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ তাপস বক্সী এবং তাঁর দল। পরিবেশনায় ঢোল বাজিয়ে অংশ নেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। এছাড়া বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা গান, আবৃত্তি, নৃত্য, সংগীত ও পুঁথি পাঠ পরিবেশন করেন।

জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আনা মৌসুমি ফল অতিথি ও উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়। শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের নেতৃবৃন্দ জানান, সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা, সামাজিক সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার লক্ষ্যেই তাদের এ ধরনের উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।

প্রকৃতি, দেশীয় ফল ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার সমন্বয়ে আয়োজিত এ ফল উৎসব কুমিল্লার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে একটি স্মরণীয় ও প্রশংসিত অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *