সার্ফবোর্ডের ভঙ্গিতে ব্রাজিল তারকা কুনহার গোল উদযাপনের নেপথ্যের গল্প

বিশ্বকাপের মঞ্চে সুযোগ পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছেন ব্রাজিলের স্ট্রাইকার ম্যাথিউস কুনহা। হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে দুটি গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। তবে গোলের চেয়েও দর্শকদের নজর কেড়েছে তার ব্যতিক্রমী উদযাপন। গোল করার পর কুনহা দুই হাত ছড়িয়ে সার্ফবোর্ডে চড়ার ভঙ্গিতে উদযাপন করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

অনেকেই ভেবেছিলেন এটি কেবল একটি সৃজনশীল গোল উদযাপন। কিন্তু এর পেছনে রয়েছে কুনহার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিশেষ গল্প। ফুটবলের বাইরে সার্ফিং তার অন্যতম প্রিয় শখ। অবসরের সময় তিনি নিয়মিত এই খেলাটি চর্চা করেন এবং নিজেকে সার্ফিং সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত রেখেছেন।

কুনহার সার্ফিংয়ের প্রতি আগ্রহের শুরু ব্রাজিলের রিও গ্রান্দে দো নর্তে অঙ্গরাজ্যে। কয়েক বছর আগে ছুটি কাটাতে গিয়ে তিনি বাইয়া ফরমোসা অঞ্চলে স্থানীয় সার্ফারদের সঙ্গে পরিচিত হন। সেখানেই প্রথমবার সার্ফিংয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। পরে সেই আগ্রহ ধীরে ধীরে নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়।

এই সময়ে তার পরিচয় হয় ব্রাজিলের কিংবদন্তি সার্ফার এবং অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী ইতালো ফেরেইরার সঙ্গে। তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কুনহা বিভিন্ন সময়ে ইতালোর সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন এবং সার্ফিং সম্পর্কে আরও জানার সুযোগ পেয়েছেন।

এক সাক্ষাৎকারে কুনহা বলেন, অবসর ও মানসিক প্রশান্তির একটি মাধ্যম হিসেবে সার্ফিং তার জীবনে এসেছে। তিনি জানান, সুযোগ পেলেই এই খেলাটি অনুশীলন করেন। ইংল্যান্ডে বসবাস করলেও সেই অভ্যাস ছাড়েননি। বর্তমানে তিনি ব্রিস্টলের কৃত্রিম ঢেউয়ের সার্ফিং কেন্দ্রে নিয়মিত অনুশীলন করেন।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ডের মতে, সার্ফিং তাকে মানসিকভাবে সতেজ থাকতে সাহায্য করে। ফুটবলের চাপের বাইরে এটি তার জন্য এক ধরনের মুক্তির অনুভূতি তৈরি করে।

হাইতির বিপক্ষে দুই গোলের পর সার্ফিং ভঙ্গিতে উদযাপন ছিল মূলত তার এই ভালোবাসার প্রতীক। মাঠে ফুটবলারের পরিচয়ে পরিচিত হলেও গোল উদযাপনের মাধ্যমে কুনহা যেন নিজের আরেকটি পরিচয়ও তুলে ধরলেন—তিনি একজন সার্ফিংপ্রেমী।

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই অনন্য উদযাপন কুনহাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। ফুটবলের বাইরে ব্যক্তিগত আগ্রহ কীভাবে একজন খেলোয়াড়ের পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠতে পারে, কুনহার উদযাপন তারই একটি উদাহরণ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *