২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। যুদ্ধ, সংঘাত, নির্যাতন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হওয়া কোটি কোটি মানুষের প্রতি সংহতি জানাতে প্রতিবছর এই দিনটি পালন করা হয়।
জাতিসংঘ ২০০১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব শরণার্থী দিবস ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর ২০ জুন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো শরণার্থীদের দুর্দশা তুলে ধরা এবং তাদের নিরাপত্তা, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস (ইউএনএইচসিআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে লাখ লাখ মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে অন্য দেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী সংকটগুলোর মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, আফগানিস্তান, সুদান এবং ইউক্রেন-এর পরিস্থিতি। এসব দেশের সংঘাত ও অস্থিরতা কোটি মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে।
বাংলাদেশও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীর আশ্রয়দাতা দেশ। ২০১৭ সালে মিয়ানমারে সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বর্তমানে কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন শিবিরে বসবাস করছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরণার্থী সংকট কেবল একটি মানবিক সমস্যা নয়; এটি উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই সংঘাত নিরসন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করতে হবে।
এ বছরের বিশ্ব শরণার্থী দিবসে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা বাড়ানো হয় এবং তাদের জন্য শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনের সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।
বিশ্ব শরণার্থী দিবস মনে করিয়ে দেয়, নিরাপদ আশ্রয় পাওয়া প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার। যুদ্ধ বা নির্যাতনের কারণে ঘরছাড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবতার অন্যতম বড় দায়িত্ব।