নেদারল্যান্ডস কি কোয়ার্টার ফাইনালের বেশি যেতে পারবে? 

আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নেদারল্যান্ডস সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের অভাব নেই। তবে বর্তমান দলটি নিয়ে আশাবাদের পাশাপাশি রয়েছে বেশ কিছু প্রশ্নও। বিশেষ করে আক্রমণভাগ, মিডফিল্ডের সমন্বয় এবং কোচিং কৌশল নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

নেদারল্যান্ডসের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকারের অভাবকে। কোডি গাকপো এবং মেম্ফিস ডেপাই দুজনই প্রতিভাবান। তবে তারা সাধারণত বড় স্পেস পেলে বেশি কার্যকর হন। প্রতিপক্ষ যদি হাই-প্রেসিং কৌশল ব্যবহার করে, তাহলে তাদের প্রভাব কমে যেতে পারে।

গাকপো বাম দিক থেকে খেললে সবচেয়ে বেশি কার্যকর। কিন্তু মাঠের অন্য অংশে তার প্রভাব তুলনামূলক কম দেখা যায়। অন্যদিকে ডেপাইয়ের গতি ও ড্রিবলিং এখনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তবে ধারাবাহিকতার অভাব তার দীর্ঘদিনের সমস্যা।

মিডফিল্ডেও কিছু প্রশ্ন রয়েছে। বার্সেলোনার ফ্রেংকি ডি ইয়ং এবং ম্যানচেস্টার সিটির নতুন মিডফিল্ডার টিজানি রেইন্ডার্সের মধ্যে সমন্বয় কতটা হবে, তা দেখার বিষয়। ক্লাব ফুটবলে দুজনের ভূমিকা ভিন্ন। রেইন্ডার্স সাধারণত আক্রমণাত্মক দায়িত্ব পালন করেন। অন্যদিকে ডি ইয়ং গভীর থেকে খেলা গড়ে তোলেন।

যদি কোচ রোনাল্ড কোম্যান চার-চার-দুই ফরমেশনে দলকে খেলান, তাহলে মাঝমাঠে ফাঁকা জায়গা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। দ্রুতগতির দলগুলো সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পাল্টা আক্রমণে যেতে পারে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে ডি ইয়ংয়ের ক্লাব পর্যায়ে খেলার সময়ও প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল।

রক্ষণভাগে এখনো সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ভার্জিল ভ্যান ডাইক। বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টার-ব্যাক হিসেবে তার অবস্থান অটুট। তবে সাম্প্রতিক মৌসুমে কিছু ভুলের কারণে তার পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বয়সের প্রভাবও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক।

আক্রমণভাগে ডনিয়েল মালেনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। তার গতি ও সুযোগ তৈরির ক্ষমতা রয়েছে। তবে ডেপাইয়ের মতো তার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতার প্রশ্ন রয়েছে।

বর্তমান স্কোয়াডে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পারফরমার হিসেবে অনেকের নজর ডেনজেল ডামফ্রিসের দিকে। ইন্টার মিলানের এই ফুটবলার গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। রাইট-ব্যাক কিংবা রাইট উইং—দুই ভূমিকাতেই তিনি সমান কার্যকর। বড় ম্যাচে তার অবদান নেদারল্যান্ডসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দলের আরেকটি আলোচিত বিষয় হলো আক্রমণভাগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ। বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্যক্তিগত উদ্যোগের প্রবণতা কখনো কখনো দলীয় আক্রমণের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। ফলে গোলের সুযোগ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কোচ রোনাল্ড কোম্যানের কৌশল নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। আধুনিক ফুটবলে দ্রুত ফরমেশন পরিবর্তন এবং ম্যাচের ভেতর কৌশল বদলানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সমালোচকদের মতে, কোম্যান এখনো তুলনামূলক রক্ষণশীল ও পুরোনো ধাঁচের পদ্ধতির ওপর বেশি নির্ভর করেন। ফলে তার দলের খেলায় চমক কম দেখা যায়।

সবকিছু বিবেচনায় নিলে নেদারল্যান্ডসের স্কোয়াডে মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। তবে দলগত সমন্বয়, আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং কৌশলগত নমনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। তাই অনেক বিশ্লেষকের মতে, দলটি যদি কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, সেটিকেই সফলতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। সেমিফাইনাল বা তার বেশি দূর যাওয়ার জন্য নেদারল্যান্ডসকে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক ভালো ফুটবল খেলতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *