প্রতি বিশ্বকাপেই এমন একটি দল থাকে, যারা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি ভালো খেলে সবাইকে চমকে দেয়। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেই পরিচয় পেয়েছিল মরক্কো। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে অনেক ফুটবল বিশ্লেষক ও সমর্থকের চোখ এখন উরুগুয়ের দিকে। দক্ষিণ আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী এই দলকে অনেকেই সম্ভাব্য ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে দেখছেন।
উরুগুয়ের প্রতি এই আস্থার অন্যতম কারণ কোচ মার্সেলো বিয়েলসা। আর্জেন্টাইন এই কোচকে ফুটবল বিশ্বের অনেকেই ‘কোচ অব দ্য কোচেস’ বলে থাকেন। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ মার্সেলো বিয়েলসার প্রভাবের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন পেপ গুয়ার্দিওলা-ও। বিয়েলসার আক্রমণাত্মক, গতিময় এবং উচ্চ-প্রেসিং ফুটবল দর্শন বহু বছর ধরে বিশ্ব ফুটবলে আলোচিত।
২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত উরুগুয়ে দলে অভিজ্ঞ ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের তারকা লুইস সুয়ারেজ এবার দলে নেই। তবে তার অনুপস্থিতি সত্ত্বেও উরুগুয়ের স্কোয়াডকে শক্তিশালী মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম ফেদেরিকো ভালভার্দে। রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডারকে বিশ্বের অন্যতম পরিশ্রমী ও বহুমুখী খেলোয়াড় হিসেবে ধরা হয়। রক্ষণ, মাঝমাঠ এবং আক্রমণ—তিন বিভাগেই তার প্রভাব দেখা যায়। বিয়েলসার কৌশল বাস্তবায়নে ভালভার্দের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
রক্ষণভাগে আছেন রোনাল্ড আরাউজো এবং হোসে মারিয়া গিমেনেজ। মাঝমাঠে রয়েছেন রদ্রিগো বেন্টানকুর, ম্যানুয়েল উগার্তে এবং ফ্যাকুন্ডো পেলিস্ট্রি। এই খেলোয়াড়রা ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
আক্রমণভাগে সবচেয়ে আলোচিত নাম ডারউইন নুনেজ। বর্তমানে সৌদি আরবের আল হিলালে খেলা এই ফরোয়ার্ডের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা থাকলেও তার গতি, শারীরিক শক্তি এবং গোল করার সামর্থ্য এখনো প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি। বিশ্বকাপে বিয়েলসার অন্যতম ‘ট্রাম্প কার্ড’ হতে পারেন তিনি।
উরুগুয়ের শক্তি শুধু কয়েকজন তারকা খেলোয়াড়ে সীমাবদ্ধ নয়। দলটির রয়েছে সুসংগঠিত রক্ষণভাগ, কর্মক্ষম মাঝমাঠ এবং দ্রুতগতির আক্রমণভাগ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিয়েলসার কৌশলগত দক্ষতা। ফলে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার বাইরে লাতিন আমেরিকার আরেকটি দল হিসেবে উরুগুয়ে বড় চমক দেখাতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে উরুগুয়ে দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা শিরোপার দাবিদার না হলেও প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করেছে। ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের লক্ষ্য হবে অন্তত কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানো। সঠিক ছন্দ পেলে সেমিফাইনালও অসম্ভব নয়।
বিশ্বকাপের বড় মঞ্চে চমকের গল্প নতুন নয়। এবার সেই গল্পের নতুন নাম হতে পারে উরুগুয়ে।