স্মরণসভায় বক্তারা: কাজী রুবী হকের আদর্শ নতুন প্রজন্মকে পথ দেখাবে

ব্রিটেনে বেড়ে ওঠা কাজী শাহ রুবী হক শুধু একজন শিক্ষক বা কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট ছিলেন না; তিনি ছিলেন প্রবাসী বাঙালি নারীদের জন্য সাহস, নেতৃত্ব ও প্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও কর্মে অনেকেই খুঁজে পেতেন বেগম রোকেয়া ও শহীদ জননী জাহানারা ইমামের আদর্শের প্রতিফলন।

২৮শে মে তাঁর চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্ব লন্ডনের মাইক্রো বিজনেস সেন্টারে এক স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ধর্মান্ধতা, উগ্রবাদ এবং সামাজিক অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন কাজী রুবী হক। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে বিশেষ সম্মান এনে দিয়েছিল। তবে একই কারণে তাঁকে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর বিরূপ মনোভাবেরও মুখোমুখি হতে হয়েছে।

স্মরণসভায় বক্তারা কাজী রুবী হককে একজন দক্ষ সংগঠক, মানবাধিকারকর্মী, নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক, আদর্শ গৃহিণী এবং স্নেহময়ী মা হিসেবে স্মরণ করেন। তারা বলেন, ব্রিটেনে বেড়ে উঠলেও তিনি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর অনুরাগী ছিলেন। আবৃত্তি, সংগীতচর্চা এবং ইংরেজির পাশাপাশি শুদ্ধ বাংলায় কথা বলার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি ছিলেন ধর্মপ্রাণ এবং নিয়মিত নামাজ আদায়কারী একজন মানুষ।

বক্তারা আরও বলেন, সুখী পারিবারিক জীবনের পাশাপাশি সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সমান সক্রিয়। তাঁর স্বামী অ্যাডভোকেট কাজী মুজিবুল হক মনিরের সহযোগিতা ও সমর্থন তাঁর বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

জাতীয় নারী জোট ইউকের প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস কমিশনের মহিলা শাখা ইংল্যান্ডের সভাপতি এবং যুক্তরাজ্য চ্যাপ্টার একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সেক্রেটারি হিসেবে কাজী রুবী হক দীর্ঘদিন প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি যুক্তরাজ্য চ্যাপ্টারের সভাপতি সৈয়দ এনামুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং জামাল আহমদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শামীম চৌধুরী, কবি শামীম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান গৌস সুলতান, হোসনেয়ারা মতিন, কাউন্সিলর জোৎস্না ইসলাম, কাউন্সিলর সাইদা চৌধুরী, রীনা মোশাররফসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতারা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত ও দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি মাওলানা সৈয়দ মাহমুদ আলী লংলী। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রবীণ সাংবাদিক মতিয়ার চৌধুরী।

বক্তারা বলেন, কাজী রুবী হকের জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। সমাজে ন্যায়, মানবিকতা এবং অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার যে সংগ্রাম তিনি করে গেছেন, তা প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *