আলবেনিয়ায় ‘ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব’ : ট্রাম্প পরিবারের রিসর্ট প্রকল্প ঘিরে টানা গণবিক্ষোভ

আলবেনিয়ার রাজধানী তিরানায় কয়েকদিন ধরে চলমান গণবিক্ষোভ নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হাতে ফ্লেমিঙ্গো পাখির প্রতীকী কাট-আউট এবং বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার দেখা যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো এই আন্দোলনকে ‘ফ্লেমিঙ্গো বিপ্লব’ নামে আখ্যায়িত করছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দেশের গুরুত্বপূর্ণ জলাভূমি ও পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাকে বাণিজ্যিক প্রকল্পের জন্য উন্মুক্ত করে দিচ্ছে সরকার। তাদের অন্যতম স্লোগান হলো—“আলবেনিয়া ট্রাম্প পরিবারের কাছে বিক্রির জন্য নয়” এবং “ফ্লেমিঙ্গোরা কোথায় যাবে?”

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠানের একটি প্রস্তাবিত বিলাসবহুল রিসর্ট প্রকল্প। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, প্রকল্পটিতে প্রায় ১০ হাজার কক্ষবিশিষ্ট একটি পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে কুশনার ও তার স্ত্রী ইভাঙ্কা ট্রাম্প প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন বলে জানা গেছে।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, যে এলাকায় প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে সেখানে ফ্লেমিঙ্গোসহ বিভিন্ন প্রজাতির পাখি এবং নানা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বৃহৎ পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ হলে ওই অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিতর্ক আরও বেড়েছে কারণ এলাকাটি একসময় সংরক্ষিত জলাভূমি হিসেবে বিবেচিত ছিল। তবে ২০২৪ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে সেখানে পর্যটন উন্নয়ন প্রকল্পের সুযোগ তৈরি হয়। সরকার বলছে, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত মে মাসের শেষ দিকে প্রকল্প এলাকার একটি অংশ ঘিরে উন্নয়নকাজের প্রস্তুতি শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই বিক্ষোভ দ্রুত বিস্তৃত হয়। আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে উত্তেজনা এবং বেশ কয়েকজনের গ্রেফতারের ঘটনাও ঘটেছে।

বিক্ষোভ দমনে জলকামানসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করলেও আন্দোলন থামেনি। টানা কয়েকদিন ধরে রাজধানী তিরানায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় অবস্থান করছেন। পরিবেশবাদী, বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মী এবং বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের সদস্যরা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবেশগত উদ্বেগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অসন্তোষের প্রকাশে পরিণত হয়েছে। অনেক বিক্ষোভকারী প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগও দাবি করছেন।

এর আগে প্রতিবেশী সার্বিয়াতেও জ্যারেড কুশনার-সংশ্লিষ্ট একটি উন্নয়ন প্রকল্প জনবিক্ষোভের মুখে পড়ে। ফলে আলবেনিয়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জাতীয় সম্পদের ব্যবহার নিয়ে চলমান বৈশ্বিক বিতর্কের অংশ হিসেবে দেখছেন।

আলবেনিয়ার এই আন্দোলন আবারও প্রশ্ন তুলেছে—অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের সম্প্রসারণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে। দেশটির চলমান পরিস্থিতি এখন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও নজর কেড়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *