লালমনিরহাট জেলার তিনটি পৃথক উপজেলা সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাত থেকে শুক্রবার (৫ জুন) ভোর পর্যন্ত হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও আদিতমারী উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এই পৃথক ঘটনাগুলো ঘটে। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
শুক্রবার (৫ই জুন) ভোরে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা সীমান্ত এলাকায় ১১ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিজিবির তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে তারা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হয় এবং শূন্যরেখায় আটকে পড়ে।
পাটগ্রাম উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাবুল কামাত পানিসালা সীমান্তে শুক্রবার ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ভারতের ৯৮ ব্যাটালিয়নের মহানদী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১০ নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা চালায়। পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ ও এক শিশু রয়েছে এবং তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে। পয়ষট্টিবাড়ী বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান জানান, বিজিবি টহল ও স্থানীয়দের বাধায় বিএসএফ পিছু হটে এবং ব্যক্তিদের নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে চলে যায়।
দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় আরও ৪ জন ব্যক্তিকে পুশইনের চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে। ওই ব্যক্তিরা বর্তমানে ভারতীয় ভূখণ্ডের কাঁটাতারবিহীন চর এলাকায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।বিজিবি কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিএসএফ পুশইনের কথা অস্বীকার করে ঊর্ধ্বতনদের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত জানাতে চেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে লালমনিরহাটের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে বিজিবির নিবিড় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে শুধু লালমনিরহাট নয়, দেশের বিভিন্ন সীমান্তে বিএসএফের পুশইন তৎপরতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সাব্বির হোসেন
(হাতিবান্ধা) লালমনিরহাট প্রতিনিধি