বিশ্বকাপ জয়ের পথে দেশমের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কি ক্লান্তি?

বিশ্বকাপের আগে সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর তালিকায় থাকছে ফ্রান্স। আক্রমণভাগ থেকে রক্ষণভাগ—প্রায় প্রতিটি বিভাগেই তারকাদের সমাহার। তবে শক্তির পাশাপাশি কিছু প্রশ্নও রয়েছে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের ক্লান্তি এবং কোচিং দর্শন নিয়ে আলোচনা চলছে ফুটবল মহলে।

ফ্রান্সের ডান প্রান্তে রয়েছে একাধিক বিশ্বমানের বিকল্প। ডেজিয়ার ডুয়ে, মিশেল ওলিসে এবং উসমান ডেমবেলের নাম।

কিলিয়ান এমবাপে হয়তো নিজের সর্বোচ্চ ফর্মে নেই। তবুও তিনি গোল করে চলেছেন নিয়মিত। তার গতি, ফিনিশিং এবং বড় ম্যাচে প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা তাকে প্রতিপক্ষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকিতে পরিণত করেছে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে তার অতীত পারফরম্যান্সও ফ্রান্সকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেয়।

ডান প্রান্তের তুলনায় বাম দিকে বিকল্প কম। তবে সেখানে আছেন ব্র্যাডলি বারকোলা। দ্রুত গতি, বল নিয়ন্ত্রণ এবং চলন্ত অবস্থায় শট নেওয়ার দক্ষতা তাকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে।

বিকল্প হিসেবে রয়েছেন মার্কাস থুরাম ও রায়ান চেরকি। অন্য অনেক জাতীয় দলে তারা নিয়মিত একাদশে জায়গা পেতেন। কিন্তু ফ্রান্সে তাদের জন্যও প্রতিযোগিতা তীব্র।

কোচ দিদিয়ের দেশাম্পস আবারও আস্থা রেখেছেন এন’গোলো কান্তে-এর ওপর। কান্তের শক্তি হলো পুরো মাঠজুড়ে উপস্থিত থাকা। বল যেখানে, কান্তেও যেন সেখানেই।

তার সঙ্গে রয়েছেন অরেলিয়েন চৌয়ামেনি এবং তরুণ প্রতিভা ওয়ারেন জায়ার-এমেরি। তবে জায়ার-এমেরির বয়স ও অভিজ্ঞতা এখনও সীমিত। বড় ম্যাচের চাপ তিনি কতটা সামলাতে পারবেন, সেটি দেখার বিষয়।

মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার কিছু ঘাটতি রয়েছে বলে মনে করেন অনেক বিশ্লেষক। সে ক্ষেত্রে ডেম্বেলেকে আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার হিসেবে ব্যবহার করা হতে পারে। এতে ডেম্বেলে ও ওলিসে একসঙ্গে মাঠে থাকার সুযোগ তৈরি হবে।

রক্ষণভাগেও ফ্রান্সের বিকল্প প্রচুর। থিও হার্নান্দেজ এবং লুকাস হার্নান্দেজ এখনও গুরুত্বপূর্ণ নাম।

কেন্দ্রীয় রক্ষণে রয়েছেন ডেওট উপমেকানো, ইব্রাহিমা কোনাতে এবং উইলিয়াম সালিবা। বিশেষ করে সালিবা সাম্প্রতিক মৌসুমে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ডিফেন্ডার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

ডান প্রান্তে জুলস কুন্ডে আক্রমণে ভালো অবদান রাখেন। তবে কখনও কখনও ট্যাকলিংয়ের সময় ভুল সিদ্ধান্ত তার দুর্বলতা হিসেবে দেখা যায়।

গোলপোস্টের নিচে ফ্রান্সের প্রথম পছন্দ মাইক মাইগনান। তিনি নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক হলেও অনেকের মতে, ফ্রান্সের অন্য বিভাগগুলোর মতো এই পজিশনে বিশ্বসেরা মানের গভীরতা নেই।

ফ্রান্সের অনেক খেলোয়াড় দীর্ঘ মৌসুম পার করে বিশ্বকাপে আসছেন। দেশীয় লিগ, ইউরোপীয় প্রতিযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ মিলিয়ে তারা বিপুল সংখ্যক ম্যাচ খেলেছেন।

বিশ্বকাপ শুরুর অল্প সময় আগে পর্যন্ত অনেক ফুটবলার ক্লাবের দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে পুরো দল একসঙ্গে অনুশীলনের জন্য খুব বেশি সময় পাবে না। এটি ফ্রান্সের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

দেশমের সবচেয়ে বড় সমালোচনা তার কৌশলগত রক্ষণশীলতা। সমালোচকদের মতে, এত প্রতিভাবান ফুটবলার থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রায়ই শারীরিক শক্তিনির্ভর ও কাঠামোগত ফুটবলের ওপর নির্ভর করেন।

তার ফর্মেশন ও খেলার ধরন তুলনামূলকভাবে অনমনীয় বলেও মত রয়েছে। ফলে ফ্রান্স কতটা আকর্ষণীয় ফুটবল খেলতে পারবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে ফ্রান্সের বর্তমান স্কোয়াডে এমন গভীরতা রয়েছে যে তা দিয়ে প্রায় দুটি শক্তিশালী দল গঠন করা সম্ভব। আক্রমণ, মিডফিল্ড ও রক্ষণ—সব জায়গাতেই রয়েছে বিশ্বমানের ফুটবলার।

ক্লান্তি এবং কৌশলগত সীমাবদ্ধতা তাদের পথ কঠিন করতে পারে। তবে সম্ভাবনা, অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত প্রতিভার বিচারে ফ্রান্স এখনও বিশ্বকাপের অন্যতম প্রধান শিরোপা দাবিদার। সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোকে অনেকেই ন্যূনতম প্রত্যাশা হিসেবে দেখছেন। আর শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতলেও সেটি মোটেও বিস্ময়কর হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *