ভারতের রাজধানী নতুন দিল্লিতে রাজনৈতিক সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ শত শত সমর্থক নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা শিক্ষা খাতে অনিয়ম ও বেকারত্ব ইস্যুতে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।
এই দলটি মূলত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গ আন্দোলন। এটি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি (ভারতীয় জনতা পার্টি)-কে কেন্দ্র করে তৈরি একটি প্যারোডি রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।
বিক্ষোভটি সংসদ ভবনের কাছে অনুষ্ঠিত হয়। কিছু অংশগ্রহণকারী ককরোচ মুখোশ পরে প্রতিবাদে অংশ নেন। আয়োজকেরা হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ও বই নিয়ে আসার আহ্বান জানান। তাদের মতে, এটি শিক্ষা ও সমান সুযোগের প্রতীক।
এই আন্দোলনের সূচনা করেন রাজনৈতিক যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ও বস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অভিজিৎ দিপকে। সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তিনি এই ব্যঙ্গাত্মক দল গঠন করেন।
গত কয়েক সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিজেপি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারী সংখ্যা দ্রুত বেড়ে কয়েক মিলিয়নে পৌঁছায়। সংগঠনের স্লোগান ছিল—“যুবকদের জন্য, যুবকদের দ্বারা, যুবকদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম।”
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তারা শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও চাকরির সংকটকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
এই আন্দোলন নিয়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত-এর একটি মন্তব্যও আলোচনায় আসে। তিনি এক শুনানিতে সমালোচনাকারী তরুণদের উদ্দেশে বিতর্কিত শব্দ ব্যবহার করেন বলে জানা যায়, যা পরে তিনি ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেন।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিল্লি পুলিশ বিক্ষোভস্থল ও বিমানবন্দরের আশপাশে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেয়। লোহার ব্যারিকেড বসানো হয় গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।
বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ এশিয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তরুণ আন্দোলনের একটি নতুন ধারা তৈরি হচ্ছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন, এমন ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন সবসময় বাস্তব রাজনৈতিক শক্তিতে রূপ নিতে পারে না।