রাশিয়ায় মানব পাচারের অভিযোগ: মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে সতর্ক করল সরকার

বাংলাদেশ থেকে রাশিয়ায় মানব পাচারের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞার ঘটনায় আলোচনায় আসা ট্রাভেল এজেন্সি নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

রোববার (১০ মে) মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানটির নাম ড্রিম হোম ট্রাভেলস। এটি ড্রিম হোম ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরস লিমিটেড নয়। একই ধরনের নাম থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮শে জানুয়ারি দৈনিক কালের কণ্ঠ-তে প্রকাশিত “রাশিয়ায় যুদ্ধে আট বাংলাদেশী” শিরোনামে সংবাদের পর সংশ্লিষ্ট এজেন্সিটির বিষয়ে যাচাই করা হয়। এতে দেখা যায়, ড্রিম হোম ট্রাভেলস -এর ট্রাভেল এজেন্সি সনদের মেয়াদ ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল শেষ হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী এম এম আবুল হাসান।

সরকার বলছে, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৩ অনুযায়ী দেশে ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনার জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। নিবন্ধন ও নবায়নের সব কার্যক্রম অনলাইনে ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয়।

মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সম্প্রতি অনেক প্রতিষ্ঠান নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান কোনো নিবন্ধন ছাড়াই ট্রাভেল ব্যবসা পরিচালনা করছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের সঙ্গে প্রতারণা ও হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। টিকিট কেনা, বিদেশ ভ্রমণ কিংবা ট্যুর প্যাকেজ গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির নিবন্ধন ও নবায়নের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় বলছে, অনিবন্ধিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করলে প্রতারণা ও আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। তাই যেকোনো ট্রাভেল এজেন্সির তথ্য সরকারি অনলাইন সিস্টেম থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্রমণকারীদের নিরাপত্তা ও মানব পাচারের ঝুঁকি কমাতে ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর ওপর নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *