চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় যুদ্ধজাহাজ ‘আইওএস সাগর’

চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘আইওএস সাগর’। বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বহুজাতিক মোতায়েন কর্মসূচি ‘আইওএস সাগর ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছায়। এ সফরকে ভারত ও বাংলাদেশের নৌ-সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বাংলাদেশের জলসীমায় প্রবেশের পর জাহাজটিকে অভ্যর্থনা জানায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ‘বিএনএস আলী হায়দার (এফ-১৭)’। পরে সেটি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।

সফরকালে আইওএস সাগরের কমান্ডিং অফিসার বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে অংশ নেবেন। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার (কমচিট), বাংলাদেশ নৌবহরের কমান্ডার (কমবান) এবং নৌ ডকইয়ার্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ। এসব বৈঠকে দুই দেশের সামুদ্রিক সহযোগিতা, নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সমন্বয় নিয়ে আলোচনা হবে।

সফর উপলক্ষে নানা কূটনৈতিক, পেশাগত ও সামাজিক আয়োজন রাখা হয়েছে। আগমনের দিন চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল একটি সংবর্ধনার আয়োজন করবে। সেখানে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া সফরের শেষ দিকে আইওএস সাগরের পক্ষ থেকেও একটি ডেক রিসেপশনের আয়োজন করা হবে।

দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে আইওএস সাগরের কমান্ডিং অফিসার চট্টগ্রাম কমনওয়েলথ ওয়ার সেমেটারিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এর মাধ্যমে যৌথ ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানানো হবে।

সফরের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করবেন জাহাজটির কর্মকর্তারা। সেখানে সামুদ্রিক নিরাপত্তা, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও লজিস্টিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও আন্তর্জাতিক নৌসদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক জাহাজ পরিদর্শন এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে।

নৌ প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যেও বিভিন্ন কর্মসূচি রাখা হয়েছে। আইওএস সাগরের নাবিকরা বিএনএস ইশা খান ট্রেনিং কমপ্লেক্স এবং বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি পরিদর্শন করবেন। এছাড়া দুই দেশের নৌসদস্যদের অংশগ্রহণে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু একটি আনুষ্ঠানিক নৌ-সফর নয়; বরং বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভারত ও বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত সহযোগিতার প্রতিফলন। ভারত ‘নেইবারহুড ফার্স্ট’ নীতি এবং ‘মহাসাগর’ উদ্যোগের আওতায় আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করছে। চট্টগ্রামে আইওএস সাগরের উপস্থিতি সেই উদ্যোগেরই বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *