মে দিবসে ঢাকায় ট্রাক ক্যাম্পেইন ১০ দফা তুলে ধরল গৃহকর্মীদের ফোরাম

রাজধানীতে মহান মে দিবস উপলক্ষে গৃহকর্মীদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার দাবিতে সচেতনতামূলক ট্রাক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গৃহকর্মী জাতীয় ফোরাম–বাংলাদেশ (DWNF-BD) এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কর্মসূচি শুরু হয়। দুপুর ১২টা পর্যন্ত এটি চলে। ট্রাকটি প্রেস ক্লাব থেকে যাত্রা শুরু করে পল্টন, জিপিও হয়ে শংকর বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয় কানাডা সরকারের অর্থায়নে। সহযোগিতা দেয় অক্সফাম ইন বাংলাদেশ। পাশাপাশি দুঃস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্র (ডিএসকে) ও কর্মজীবী নারীর “সুনীতি” প্রকল্প এতে যুক্ত ।

আয়োজকরা বলেন, ১৪০ বছর আগে শিকাগোর শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি ও নির্ধারিত কর্মঘণ্টার দাবিতে জীবন দিয়েছিলেন। সেই সংগ্রামের চেতনা থেকেই মে দিবসের সূচনা। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো গৃহকর্মীরা পূর্ণ শ্রমিক স্বীকৃতি পান না। তাদের অনেকেই সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত।

ফোরামের তথ্যমতে, দেশে হাজার হাজার গৃহকর্মী অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করছেন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নেই লিখিত চুক্তি। নির্ধারিত কর্মঘণ্টা মানা হয় না। ছুটি বা স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও সীমিত।

এই বাস্তবতায় ফোরাম প্রায় ১৬ হাজার গৃহকর্মীকে সংগঠিত করেছে। তারা অধিকার আদায় ও দক্ষতা উন্নয়নে কাজ করছে। লক্ষ্য, নির্যাতনমুক্ত নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা।

মে দিবসের ট্রাক ক্যাম্পেইনে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—শ্রম আইনে গৃহকর্মীদের পূর্ণ স্বীকৃতি, ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের অধিকার, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, লিখিত নিয়োগপত্র, সাপ্তাহিক ছুটি, ন্যূনতম মজুরি, নির্ধারিত কর্মঘণ্টা, নির্যাতন প্রতিরোধ, সামাজিক সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবা কার্ড চালু।

সম্প্রতি গৃহকর্মীদের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ব্যবস্থা কার্যকর না করার কারণ জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। বিষয়টি নতুন আশার সৃষ্টি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ফোরামের সভাপতি জাকিয়া সুলতানা বলেন, গৃহকর্মীদের অধিকার মানে মানবাধিকার। রাষ্ট্রকে তাদের পূর্ণ শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধন ব্যবস্থা চালু হলে গৃহকর্মী ও গৃহকর্তা উভয়ের নিরাপত্তা বাড়বে। এতে জবাবদিহিও নিশ্চিত হবে।

ক্যাম্পেইনে অংশ নেন ফোরামের নেতৃবৃন্দ, গৃহকর্মী প্রতিনিধি ও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা। তারা পথচারীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ করেন। বিভিন্ন স্থানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যও দেন।

আয়োজকদের দাবি, গৃহকর্মীদের অধিকার নিশ্চিত না হলে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়। তাই সমাজের সব স্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *