আদালত ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সহজ করতে নেওয়া হয়েছে নতুন উদ্যোগ। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, মোবাইল কোর্ট এবং জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতের কার্যক্রম ধীরে ধীরে অনলাইনভিত্তিক করা হচ্ছে ‘ই-কোর্ট’ ফ্রেমওয়ার্কের মাধ্যমে। এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করছে এটুআই প্রোগ্রাম, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে।
এই ডিজিটাল ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো পেমেন্ট সেবা। সেটিকে আরও দ্রুত ও ব্যবহারবান্ধব করতে ই-কোর্ট সিস্টেমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে ekPay প্ল্যাটফর্ম। এর ফলে আদালতের বিভিন্ন ফি, জরিমানা বা পাওনা অনলাইনে সহজেই পরিশোধ করা সম্ভব হবে।
এই ইন্টিগ্রেশনের অংশ হিসেবে চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের জেনারেল সার্টিফিকেট শাখাকে একপে মার্চেন্ট আইডি দেওয়া হয়েছে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় ‘ই-কোর্ট ফ্রেমওয়ার্কের পেমেন্ট সিস্টেম সেনসিটাইজেশন’ শীর্ষক একটি কর্মশালা।
কর্মশালার উদ্বোধন করেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোহা. আব্দুর রফিক। স্বাগত বক্তব্য দেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এছাড়া ই-কোর্ট সেবার বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন এটুআই-এর যুগ্ম প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুল হাসান।
কর্মশালায় ই-কোর্টের পেমেন্ট পদ্ধতি এবং একপে ইন্টিগ্রেশন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এতে অংশ নেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে আদালতের সেবা পেতে সাধারণ মানুষের সময় ও ভোগান্তি অনেক কমবে। ঘরে বসেই ফি পরিশোধ করা সম্ভব হবে, কমবে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং সরকারি সেবার ওপর মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে।
ডিজিটাল বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে ই-কোর্ট ফ্রেমওয়ার্কের এই অগ্রগতি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।