নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বাংলাদেশে ইইউ ব্যাংকের উদ্যোগ

বাংলাদেশে জ্বালানি নিরাপত্তা এখন একটি বড় অগ্রাধিকার। বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদা। একই সঙ্গে বাড়ছে আমদানি নির্ভরতা। এই প্রেক্ষাপটে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে ইউরোপীয় অংশীদাররা।

গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক-এর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে। সফরের লক্ষ্য ছিল “বাংলাদেশ রিনাউবেল এনার্জি ফ্যাসিলিটি ” প্রকল্পকে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে নেওয়া। আগে এটি পরিকল্পনা পর্যায়ে ছিল। এখন তা বাস্তব কাজে রূপ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

এই উদ্যোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সরকার, বেসরকারি খাত, বিনিয়োগকারী, উদ্ভাবক ও স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। লক্ষ্য একটাই—পরিষ্কার, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করা।

প্রকল্পের একটি বড় অংশ হচ্ছে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ। সৌর, বায়ু ও বায়োমাস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো হবে। এতে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুতের বড় অংশ আসে গ্যাস ও আমদানি করা জ্বালানি থেকে। এতে ব্যয় বাড়ে এবং ঝুঁকিও থাকে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে জ্বালানি ব্যবহারে পরিবর্তন আনা। কারখানা, ভবন ও পরিবহন খাতে দক্ষ প্রযুক্তি ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে একই উৎপাদনে কম বিদ্যুৎ লাগবে। শিল্প খাতে ব্যয় কমবে। পরিবেশ দূষণও কমবে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকেও নতুনভাবে দেখা হচ্ছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, আবর্জনা থেকে জ্বালানি বা নতুন পণ্য তৈরি করা হবে। এতে একদিকে পরিবেশ রক্ষা হবে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা অনেক। তবে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও নীতিগত সহায়তা দরকার। ইউরোপীয় অংশীদারদের এই উদ্যোগ সেই ঘাটতি পূরণে সহায়ক হতে পারে।

সরকারও ইতোমধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর কথা বলেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ পরিষ্কার জ্বালানি থেকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সব মিলিয়ে, পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়নে যাত্রা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশে জ্বালানি খাতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *