ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং ই-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ব্রিকস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা প্রতিনিধিদের ১৬তম বৈঠকে অংশ নিতে বর্তমানে ভারত সফরে রয়েছেন ওয়াং ই।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদি ভারত ও চীনের দীর্ঘ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুটি দেশই প্রাচীন সভ্যতার ধারক এবং হাজার বছরের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ইতিহাস রয়েছে তাদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় ধরে উভয় দেশই বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভারত ও চীনের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন মোদি। তিনি বলেন, দুই দেশের উচিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বজায় রাখা, বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা এবং গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করা।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামী বছর চীনের ব্রিকসের সভাপতিত্ব গ্রহণকে ভারত সমর্থন করে। ব্রিকস সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করতে বেইজিংয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।
জবাবে ওয়াং ই বলেন, চীন ও ভারত বিশ্বের দুটি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশ এবং গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। তাঁর মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সংহতি, সহযোগিতা ও আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে দুই দেশের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা উচিত।
তিনি বলেন, ব্রিকসের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ভারতের দায়িত্ব পালনে চীন সমর্থন অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে ব্রিকসকে আরও ফলপ্রসূ ও প্রভাবশালী করতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।
ওয়াং ই আরও বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে অর্জিত গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য বাস্তবায়নে চীন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, সংবেদনশীল বিষয়গুলোর যথাযথ ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিবাচক ধারা বজায় রাখতে বেইজিং কাজ করে যাবে।
তিনি বলেন, চীন-ভারত সহযোগিতা শুধু দুই দেশের জনগণের স্বার্থই রক্ষা করবে না, বরং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
একই দিনে ওয়াং ই ব্রিকস জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা প্রতিনিধিদের ১৬তম বৈঠকেও অংশ নেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্ত ইস্যু ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন থাকলেও এই বৈঠক দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ অব্যাহত রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। পাশাপাশি ব্রিকস ও গ্লোবাল সাউথভিত্তিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।