বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সফররত সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল ও লাতিন আমেরিকা বিভাগের পরিচালক ও বিভাগীয় প্রধান ড্যানিয়েল ওলভেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাতে ড্যানিয়েল ওলভেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় শামা ওবায়েদ ইসলামকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ ও সুইডেনের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং উন্নয়ন সহযোগিতার ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুইডেন বাংলাদেশের একজন বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার। বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা এবং জলবায়ু সহনশীলতা তৈরিতে সুইডেনের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তিনি।
তিনি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে সৃজনশীল অর্থনীতি বিকাশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নারী উন্নয়ন ও জেন্ডার সমতার জন্য নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা করেন।
ড্যানিয়েল ওলভেন জানান, উন্নয়ন সহযোগিতার দীর্ঘ ইতিহাস ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে এর প্রভাব বিবেচনায় সুইডেন ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানো, টেলিযোগাযোগ, প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন, মানবাধিকার, জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পন্ন করার গুরুত্ব তুলে ধরে। তারা মনে করেন, এ ধরনের চুক্তি দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সুইডেনের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। বিশেষ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প এবং প্রকৌশল খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সুইডেনের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
দুই দেশের প্রতিনিধিরা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন। তারা শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।
এর আগে ড্যানিয়েল ওলভেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।