ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগে ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন অ্যান্টার্কটিকা অ্যান্ড দ্য সাউদার্ন ওশান’ শীর্ষক বিশেষ যৌথ চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন হয়েছে। বুধবার (২৪শে জুন) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগে এ প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
মাদ্রিদ প্রোটোকলের ৩৫তম বার্ষিকী উদযাপন এবং বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সাংস্কৃতিক সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগ এবং ঢাকাস্থ অস্ট্রেলিয়ান হাইকমিশন যৌথভাবে প্রদর্শনীর আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, এই প্রদর্শনী বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। জলবায়ু ও পরিবেশগত বাস্তবতা দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বর্তমানে ২২ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন। এসব শিক্ষার্থী দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জ্ঞান বিনিময়ের একটি শক্তিশালী সেতু হিসেবে কাজ করছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ মহাসাগরের পরিবর্তন নিয়ে প্রদর্শিত চিত্রকর্মগুলো আমাদের বৈশ্বিক দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়। সংস্কৃতির পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতার ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করতে চায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত অস্ট্রেলিয়ার হাইকমিশনার এইচ.ই. সুসান রাইল। তিনি জলবায়ু বিজ্ঞান, গবেষণা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার যৌথ উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম।
প্রদর্শনীতে অ্যান্টার্কটিকা ও দক্ষিণ মহাসাগরের জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশগত সংকট এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। চিত্রকর্মের মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে মেরু অঞ্চলের পরিবর্তনশীল প্রকৃতি এবং এর বৈশ্বিক প্রভাব উপস্থাপন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের পর অতিথিরা প্রদর্শনীর বিভিন্ন চিত্রকর্ম ঘুরে দেখেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টার্কটিকা পৃথিবীর জলবায়ু ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেখানে বরফ গলা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের পরিবর্তন পুরো বিশ্বের ওপর প্রভাব ফেলছে। এ ধরনের আয়োজন জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।