পাকিস্তান কীভাবে বিশ্বের অপরিহার্য রাষ্ট্রে পরিণত হলো

লিম তিয়ান

১৮৭৮ সালের গ্রীষ্মকাল। ইউরোপের মহাশক্তিধর দেশগুলো বার্লিনে জড়ো হয়েছিল ‘প্রাচ্য প্রশ্ন’-এর সমাধান করতে। রাশিয়া অটোমান সাম্রাজ্যকে পরাজিত করার পর তাদের ভূখণ্ড পুনর্বিন্যাস নিয়ে আলোচনা চলছিল। উনিশ শতকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সম্মেলনগুলোর একটিতে উপস্থিত ছিলেন যুগের সেরা নেতারা। আয়োজক হিসেবে ছিলেন অটো ফন বিসমার্ক। রাশিয়ার প্রতিনিধি ছিলেন গোরচাকভ এবং অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরির প্রতিনিধি ছিলেন আন্দ্রাশি।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন ডিজরায়েলিও। তখন তাঁর বয়স ৭৩ বছর। গাউট ও ব্রঙ্কাইটিসে তাঁর শরীর ছিল দুর্বল। তিনি এমন এক ব্রিটেনের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, যাকে মহাদেশীয় ইউরোপের অনেকে তখন হ্রাসমান শক্তি হিসেবে বিবেচনা করত। কিন্তু বার্লিনে পৌঁছেই তিনি পুরো সম্মেলনের গতিপথ বদলে দেন। কখনও তিনি সম্মেলন ত্যাগ করার হুমকি দেন, আবার কখনও অদম্য আত্মবিশ্বাসে নিজের অবস্থানে অটল থাকেন। শেষ পর্যন্ত তিনি এমন কিছু কূটনৈতিক অর্জন করেন, যা অনেকেই অসম্ভব বলে মনে করেছিলেন।

লোহাকণ্ঠী বিসমার্ক—যাকে সেই যুগের সবচেয়ে প্রখর রাজনৈতিক মস্তিষ্ক হিসেবে গণ্য করা হতো—সবকিছু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। পরে তিনি ডিজরায়েলি সম্পর্কে মন্তব্য করেন, “Der alte Jude, das ist der Mann।” অর্থাৎ, “বৃদ্ধ ইহুদি, ও-ই আসল মানুষ।”

সম্ভবত এটি একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রতি আরেকজন রাষ্ট্রনায়কের সর্বোচ্চ শ্রদ্ধার প্রকাশ। বিসমার্ক এখানে শুধু কৌশলগত দক্ষতার প্রশংসা করেননি; তিনি স্বীকৃতি দিয়েছিলেন ‘মর্যাদা’ বা ‘প্রেস্টিজ’-কে। ডিজরায়েলি নিজেও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রকৃত মুদ্রা হিসেবে মর্যাদাকেই দেখতেন। সেনাবাহিনী নয়, জিডিপি নয়, এমনকি আনুষ্ঠানিক জোটও নয়—বরং অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মনে গেঁথে যাওয়া সেই নীরব উপলব্ধি যে, এই মানুষটিকে গুরুত্ব দিতেই হবে।

বার্লিনে ডিজরায়েলির সাফল্যে রানি ভিক্টোরিয়া এতটাই আনন্দিত হয়েছিলেন যে, তিনি প্রচলিত প্রথা ভেঙে তাঁর সম্মানে একটি ব্যক্তিগত পদক তৈরি করেন। ব্রিটিশ রাজতন্ত্র ও প্রধানমন্ত্রীর সম্পর্কের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল।

ডিজরায়েলি বুঝতেন, মর্যাদা কূটনীতির সবচেয়ে শক্তিশালী, কিন্তু একই সঙ্গে সবচেয়ে ভঙ্গুর সম্পদ। এটি তৈরি করা যায় না, কেনা যায় না। এটি কেবল অর্জন করা যায়—সঠিক বিচারবুদ্ধি, কৌশলগত সাহস এবং সংকটময় মুহূর্তে কর্তৃত্বপূর্ণ নেতৃত্বের মাধ্যমে।

এই মানদণ্ডেই আমাদের বিচার করতে হবে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় চলমান এক বিস্ময়কর পরিবর্তনকে—এবং দেখতে হবে, কোন দেশটি সব পূর্বধারণা ভেঙে আজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অভিনেতাদের একটিতে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উত্থান বোঝার আগে আমাদের দেখতে হবে, প্রকৃত মর্যাদাভিত্তিক কূটনীতি কাকে বলে। আধুনিক ইতিহাসে এর চেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ খুব কমই আছে, যতটা আছে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা নেতা লি কুয়ান ইউ-এর ক্ষেত্রে।

সিঙ্গাপুর একটি ক্ষুদ্র নগর-রাষ্ট্র। এর কোনো কৌশলগত গভীরতা নেই, উল্লেখযোগ্য প্রাকৃতিক সম্পদ নেই, এমনকি মহাশক্তিগুলোর নজর কাড়ার মতো সামরিক শক্তিও নেই। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রচলিত হিসাব অনুযায়ী, এটি একটি গুরুত্বহীন রাষ্ট্র হওয়ার কথা ছিল—একটি সুশৃঙ্খল বন্দরনগরী, যার প্রতি বড় শক্তিগুলোর খুব একটা আগ্রহ থাকার কথা নয়।

কিন্তু চার দশকেরও বেশি সময় ধরে লি কুয়ান ইউ ছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে চাহিদাসম্পন্ন কৌশলগত চিন্তাবিদদের একজন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন তাঁকে তাঁর জীবনের সেরা দুই-তিনজন নেতার একজন বলে মনে করতেন। হেনরি কিসিঞ্জার নিয়মিত তাঁর পরামর্শ নিতেন এবং এশিয়া বিষয়ক তাঁর বিশ্লেষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। দেং শিয়াওপিং সিঙ্গাপুর মডেল অধ্যয়ন করেন এবং শেখার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠান। মার্গারেট থ্যাচারও তাঁর পরামর্শের মূল্য দিতেন। তিনি একবার স্বীকার করেছিলেন যে, আন্তর্জাতিক বিষয়ে লি কুয়ান ইউ-এর মন্তব্য তিনি গভীর মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। নিক্সন থেকে বারাক ওবামা পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্টই তাঁর সঙ্গে গুরুত্বসহকারে আলোচনা করেছেন।

একটি ছোট্ট দ্বীপ রাষ্ট্রের নেতা কীভাবে বিশ্বের ক্ষমতাধরদের মনোযোগ আকর্ষণ করলেন?

এর উত্তর নিহিত আছে ডিজরায়েলির সেই ‘মুদ্রা’-য়। লি কুয়ান ইউ-এর ছিল প্রকৃত মর্যাদা। তিনি স্পষ্ট ও নির্ভীকভাবে সত্য কথা বলতেন। তাঁর কৌশলগত বিশ্লেষণ ছিল নিখুঁত এবং বারবার সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। সিঙ্গাপুরের টিকে থাকা ও সমৃদ্ধি ছাড়া তাঁর অন্য কোনো গোপন উদ্দেশ্য ছিল না। এই স্বচ্ছতা তাঁর বিশ্লেষণকে মতাদর্শগত পক্ষপাত থেকে মুক্ত রেখেছিল।

তিনি কাউকে তাঁর পরামর্শ নিতে অনুরোধ করতেন না। বরং তাঁর বিচারবুদ্ধি ও বিশ্লেষণের মানই তাঁকে অপরিহার্য করে তুলেছিল। যখন তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, চীনের ভবিষ্যৎ বা প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে কথা বলতেন, তখন বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতারা তাঁর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন—শুধু ভদ্রতার কারণে নয়, বরং তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে তিনি সম্ভবত সঠিক কথা বলছেন।

ছোট রাষ্ট্রের কূটনীতির ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ মানদণ্ড। কৌশলগত সম্পদ হিসেবে মর্যাদার এটিই সবচেয়ে পরিশীলিত রূপ।

এখন সেই মানদণ্ডে বিচার করলে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক উত্থান আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।

গত দুই দশক ধরে পাকিস্তান পশ্চিমা কৌশলগত বিশ্লেষণে এক অস্বস্তিকর অবস্থানে ছিল। একদিকে দেশটি ছিল অপরিহার্য, অন্যদিকে ছিল সন্দেহের কেন্দ্রবিন্দু। আফগান যুদ্ধের সময় আইএসআই-এর দ্বিমুখী ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ, দীর্ঘমেয়াদি আইএমএফ নির্ভরতা, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা—সব মিলিয়ে পাকিস্তানকে প্রায়ই একটি ‘সমস্যা রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখা হতো।

কিন্তু এরপর আসে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা—এই দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক উদ্যোগ। যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য সেতুর প্রয়োজন হয়, তখন ফোন যায়নি ব্রাসেলসে, যায়নি দিল্লিতে, যায়নি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কোনো স্বঘোষিত অভিভাবকের কাছে।

ফোন গিয়েছিল ইসলামাবাদে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় পরিবর্তন। যে দেশটিকে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা করা হয়েছে, সমালোচনা করা হয়েছে এবং অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা দিতে হয়েছে, সেই দেশই হঠাৎ করে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোর একটির কেন্দ্রীয় সংযোগকারী হয়ে উঠল।

পাকিস্তান এমন একটি অবস্থান অর্জন করেছিল, যা অন্য কোনো সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারীর পক্ষে সহজে সম্ভব ছিল না। তাদের ছিল দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং স্বার্থের একটি অনন্য সমন্বয়।

ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের রয়েছে দীর্ঘ সীমান্ত, পারস্য সংস্কৃতির ঐতিহাসিক প্রভাব, উল্লেখযোগ্য শিয়া জনগোষ্ঠী এবং বহু দশকের জটিল কিন্তু বাস্তব সম্পর্ক। তেহরান ইসলামাবাদকে পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে দেখত না। এই জোটনিরপেক্ষ বিশ্বাসযোগ্যতাই ইরানকে আলোচনার পথে আসতে সহায়তা করেছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ নিরাপত্তা সহযোগিতার ইতিহাস রয়েছে। নানা টানাপোড়েন সত্ত্বেও সামরিক ও কৌশলগত যোগাযোগ বজায় ছিল। ওয়াশিংটন বুঝত যে পাকিস্তানেরও নিজস্ব কারণে একটি সমঝোতা প্রয়োজন—পশ্চিম সীমান্তে স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা হ্রাস।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উভয় পক্ষই বিশ্বাস করেছিল যে পাকিস্তান কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করছে না; বরং নিজের স্বার্থ থেকেই সমঝোতা চায়। কূটনীতিতে এই ধরনের কাঠামোগত জোটনিরপেক্ষতা অত্যন্ত বিরল এবং মূল্যবান।

পাকিস্তান কেবল একটি মাঝারি শক্তির দেশ নয়। এটি বিশ্বের একমাত্র মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পারমাণবিক অস্ত্রধারী রাষ্ট্র। একই সঙ্গে এটি চীন, ইরান, মধ্য এশিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বার্থের সংযোগস্থলে অবস্থিত। ভূ-রাজনীতির ভাষায়, এটি একটি ‘কনেক্টর স্টেট’ বা সংযোগকারী রাষ্ট্র।

এই মধ্যস্থতার মাধ্যমে পাকিস্তান কার্যত সেই ভূমিকাতেই বৈশ্বিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।

পাকিস্তানের এই গল্প আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন এর বিপরীতে ভারতের অবস্থান বিবেচনা করা হয়।

প্রচলিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এমন মধ্যস্থতাকারী হওয়ার কথা ছিল ভারতেরই। ইরানের সঙ্গে তাদের বহু শতাব্দীর সভ্যতাগত সম্পর্ক রয়েছে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীও ভারতের। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছে এবং নিজেদের জোটনিরপেক্ষ বলেও দাবি করে।

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত ‘বিশ্বগুরু’ ধারণাকে পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রে স্থান দিয়েছে। দেশটি নিজেকে গ্লোবাল সাউথের কণ্ঠস্বর এবং একটি উদীয়মান সভ্যতাভিত্তিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে।

কিন্তু যখন বাস্তব নেতৃত্ব প্রদর্শনের সুযোগ এল, তখন ভারত সেই প্রক্রিয়ার কেন্দ্রে ছিল না।

লেখকের মতে, এর একটি কারণ হলো ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে প্রতীক ও বাস্তবতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের সঙ্গে ভারতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, গাজা প্রশ্নে তাদের অবস্থান এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্কের সীমাবদ্ধতা—এসব বিষয় তেহরানের দৃষ্টিতে ভারতের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তিকে দুর্বল করেছে।

চাবাহার বন্দর প্রকল্পও প্রত্যাশিত গতি পায়নি। একই সঙ্গে ভারতের কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অনেক ক্ষেত্রে বাস্তব নীতির বদলে রাজনৈতিক স্লোগানে পরিণত হয়েছে বলে সমালোচনা রয়েছে।

ডিজরায়েলির ভাষায় বলতে গেলে, মর্যাদা নিজে নিজে ঘোষণা করা যায় না। এটি অন্যদের কাছ থেকে অর্জন করতে হয়। লেখকের মতে, এই ক্ষেত্রে পাকিস্তান সেই স্বীকৃতি পেয়েছে, ভারত পায়নি।

পাকিস্তানের উত্থান এবং ভারতের এই আপাত পাশ কাটিয়ে যাওয়া আমাদের বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়।

শীতল যুদ্ধ-পরবর্তী একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বে আন্তর্জাতিক মর্যাদা অনেকাংশে নির্ভর করত যুক্তরাষ্ট্রের কতটা ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া যায় তার ওপর। কিন্তু সেই বিশ্বব্যবস্থা এখন বদলে যাচ্ছে।

নতুন বহুমেরুকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় মর্যাদা অর্জন করে সেই রাষ্ট্রগুলো, যারা প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিকেন্দ্রগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তুলতে পারে। যারা কোনো একক শক্তির নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ বজায় রাখতে সক্ষম।

এই বাস্তবতায় জোটনিরপেক্ষ বিশ্বাসযোগ্যতা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে।

পাকিস্তান হয়তো স্বতঃস্ফূর্তভাবেই এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেছে। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্বার্থের সংযোগস্থলে তাদের অবস্থান, যা একসময় দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হতো, এখন তাদের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদে পরিণত হয়েছে।

লি কুয়ান ইউ বহু আগেই এই সত্য উপলব্ধি করেছিলেন। তাঁর মতে, একটি ছোট রাষ্ট্র তখনই সফল হয়, যখন সে কোনো একক শক্তির সঙ্গে নিজেকে আবদ্ধ না করে বরং সবার কাছে উপযোগী হয়ে ওঠে—একটি সংযোগস্থল হিসেবে, একটি নির্ভরযোগ্য আলোচক হিসেবে।

লেখকের মতে, পাকিস্তান এখন বৃহত্তর পরিসরে সেই ভূমিকাই দাবি করেছে।

এবং এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি পুরোনো কিন্তু মৌলিক সত্যকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে—যে সত্য ডিজরায়েলি বুঝতেন, বিসমার্ক চিনতেন এবং ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে: রাষ্ট্রগুলোর এই মহা খেলায় মর্যাদা কাউকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয় না। এটি অর্জন করতে হয়—সঠিক মুহূর্ত চিহ্নিত করার প্রজ্ঞা এবং সেই মুহূর্তে কাজ করার সাহসের মাধ্যমে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *