ফিফা বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত ৪৮ দলের আসর নিয়ে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন। তার বক্তব্যের বিরুদ্ধে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে আফ্রিকা, ক্যারিবীয় অঞ্চল ও মধ্য এশিয়ার ১৩টি দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
সম্প্রতি সেফেরিন দাবি করেন, ৪৮ দলের বিশ্বকাপে অধিকাংশ ম্যাচ হবে ‘নিরস’, ‘অগুরুত্বপূর্ণ’ এবং ‘অর্থহীন’। তার এই মন্তব্যের জবাবে কেপ ভার্দে, কুরাসাও, উজবেকিস্তান, কঙ্গো, হাইতি, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো, মিশর, ঘানা, সেনেগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আইভরি কোস্টের ফুটবল কর্তৃপক্ষ একযোগে প্রতিবাদ জানায়।
যৌথ বিবৃতিতে তারা বলে, বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচই গুরুত্বহীন নয়। প্রতিটি দেশের জন্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ একটি বিশেষ অর্জন। এটি শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ নয়, বরং বহু বছরের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও পরিশ্রমের ফল।
বিবৃতিতে বলা হয়, কেপ ভার্দে, কুরাসাও ও উজবেকিস্তানের মতো দেশের জন্য বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এটি বহু প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণের সমান। অন্যদিকে কঙ্গো ও হাইতির মতো দেশের জন্য দীর্ঘ সময় পর ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ফেরা লাখো সমর্থকের কাছে গভীর আবেগের বিষয়।
১৩ দেশের ফুটবল সংস্থাগুলো আরও বলে, এসব ম্যাচকে কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখাটা হতাশাজনক। এতে খেলোয়াড়, কোচ, ক্লাব, ফুটবল কর্মকর্তা এবং সমর্থকদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও প্রচেষ্টার যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না।
বিবৃতিতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের পেছনের বাস্তবতাও তুলে ধরা হয়। বলা হয়, একটি জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে নিয়ে যেতে বছরের পর বছর বিনিয়োগ, পরিকল্পনা ও কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। প্রতিটি দলের পেছনে থাকে একটি পুরো জাতি, যারা ফুটবলকে গর্ব, আশা এবং ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখে।
তারা জোর দিয়ে বলে, ফুটবল কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা গোষ্ঠীর সম্পত্তি নয়। এই খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি এর বিশ্বজনীনতা। ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বের সেরা ফুটবল প্রতিযোগিতা, কারণ এটি ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন ইতিহাস এবং ভিন্ন ফুটবল ঐতিহ্যের দেশগুলোকে এক মঞ্চে নিয়ে আসে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনেক দেশের জন্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করার সুযোগ তৈরি করে। এটি দেশের ফুটবল উন্নয়নে নতুন গতি আনে এবং এমন স্মৃতি সৃষ্টি করে, যা আজীবন মনে থাকে।
শেষে ১৩ দেশের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনকারী প্রতিটি দেশ সম্মানের দাবিদার। প্রতিটি দল নিজেদের যোগ্যতায় এই মঞ্চে এসেছে। প্রতিটি সমর্থকের স্বপ্ন দেখার অধিকার রয়েছে। আর প্রতিটি ম্যাচই বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে অর্থবহ।
সেফেরিনের মন্তব্য প্রত্যাখ্যান করে তারা ফুটবলের আরও বিস্তার, নতুন সুযোগ সৃষ্টি এবং খেলাটির প্রকৃত বৈশ্বিক চরিত্রকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানায়।