খাদ্য নিরাপত্তায় অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মানুষ ও প্রাণীর ক্ষেত্রে অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

রাজধানীর হোটেল সারিনায় অনুষ্ঠিত ‘ভেটেরিনারি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন (ভিএজি) বাস্তবায়ন বিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মশালা’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। কর্মশালার আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। এতে সহযোগিতা করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স মাল্টি-পার্টনার ট্রাস্ট ফান্ড (এএমআর এমপিটিএফ) প্রকল্প।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। কিন্তু মানুষ ও প্রাণীর ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিকের অপ্রয়োজনীয় ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছে।

তিনি বলেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অতিরিক্ত ব্যবহার মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতেও এর অপব্যবহার দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে দায়িত্বশীল ও বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অনেক প্রান্তিক খামারি দ্রুত রোগ নিরাময়ের আশায় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অনেকেরই পর্যাপ্ত ধারণা নেই। এ কারণে সচেতনতার অভাব এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

তিনি ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিরুৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদেরও এ বিষয়ে নিয়মিত তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভেটেরিনারি চিকিৎসক, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং খামারিদের সমন্বয়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে বরিশালে অর্জিত সাফল্য দেশের অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।

তিনি নিরাপদ প্রাণিজ খাদ্য উৎপাদন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বিশেষজ্ঞ এবং খামারিসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ও বাংলাদেশের প্রধান ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মো. বয়জার রহমান।

কর্মশালায় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল স্টুয়ার্ডশিপ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থার (WOAH) জাতীয় এএমআর পরামর্শক ড. মো. হাবিবুর রহমান।

এ ছাড়া অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর), ‘ওয়ান হেলথ’ ধারণা এবং দায়িত্বশীল অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল ব্যবহারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *