ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রুশ ভাষা দিবস এবং বিশ্বখ্যাত রুশ কবি আলেকজান্ডার পুশকিনের ২২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকা। ১৪ই জুন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুশকিনের আবক্ষ ভাস্কর্যের সামনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাবেক শিক্ষার্থী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং রুশ সংস্কৃতির অনুরাগীরা অংশ নেন। তারা পুশকিনের সাহিত্যকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং আন্তর্জাতিক সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধিতে রুশ ভাষার ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন রাশিয়ান হাউস ইন ঢাকার পরিচালক আলেকজান্দ্রা খ্লেভনয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম, বাংলাদেশে রাশিয়ান ফেডারেশনের দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি আনাস্তাসিয়া নেমোভা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের (আইএমএল) ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবসার কামাল।
বক্তারা আলেকজান্ডার পুশকিনের সাহিত্যিক অবদান, রুশ ভাষার বৈশ্বিক গুরুত্ব এবং বাংলাদেশ-রাশিয়ার দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির বিনিময় দুই দেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলা ভাষায় দেওয়া বক্তব্যে আনাস্তাসিয়া নেমোভা রাশিয়া ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পুশকিনের আবক্ষ ভাস্কর্যে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষার্থীরা পুশকিনের কবিতা রুশ ভাষায় আবৃত্তি করেন। একই সঙ্গে তারা কবিতাগুলোর বাংলা অনুবাদও উপস্থাপন করেন। এতে তাদের ভাষাগত দক্ষতা এবং রুশ সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ফুটে ওঠে।
রুশ ভাষা কোর্সের শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেন। আয়োজকদের মতে, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
উল্লেখ্য, আলেকজান্ডার পুশকিনকে আধুনিক রুশ সাহিত্যের জনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর সাহিত্যকর্ম রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। প্রতি বছর তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রুশ ভাষা দিবস পালিত হয়।