বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয়ের কৃতিত্ব অর্জনকারী বাংলাদেশি পর্বতারোহী নুরুন্নাহার নিম্নিকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যান্ড ট্রেকিং ক্লাব (বিএমটিসি)। ২৭শে মে ২০২৬ এভারেস্ট শৃঙ্গে সফলভাবে আরোহণের পর তাকে সম্মান জানাতে সম্প্রতি একটি ‘ফ্ল্যাগ-ইন সেরিমনি’ আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ললিতা সিলওয়াল। তিনি নুরুন্নাহার নিম্নিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এভারেস্ট জয় শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি বাংলাদেশের জন্যও একটি গর্বের অর্জন।
নেপালি কূটনীতিক ললিতা সিলওয়াল বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে পর্বতারোহণের প্রতি আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি মনে করেন, পর্বতারোহী ও ট্রেকাররা নেপাল ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ ও বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
নুরুন্নাহার নিম্নি এভারেস্ট জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে তৃতীয় নারী হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। এর আগে নিশাত মজুমদার ও ওয়াসফিয়া নাজরীন বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছিলেন। নিম্নির এই সাফল্য দেশের নতুন প্রজন্মের পর্বতারোহীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হিমালয় অঞ্চলে অবস্থিত ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্ট পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শত শত পর্বতারোহী এই শৃঙ্গ জয়ের চেষ্টা করেন। কঠিন আবহাওয়া, অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং প্রতিকূল পরিবেশের কারণে এভারেস্ট আরোহণকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভিযাত্রিক চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
পর্বতারোহণ বিশেষজ্ঞদের মতে, নুরুন্নাহার নিম্নির এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সাহসিকতার নতুন পরিচয় তুলে ধরেছে। একই সঙ্গে এটি দেশে অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস ও পর্বতারোহণের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়াতে সহায়তা করবে।