মেক্সিকো সিটির আজতেকা স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকো ২-০ গোলে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকাকে। ম্যাচে জয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড, যার কারণে শেষ দিকে তারা নয়জন খেলোয়াড় নিয়ে খেলা শেষ করে।
প্রথমার্ধে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় মেক্সিকো। আক্রমণাত্মক ফুটবল দিয়ে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করে। মাঝামাঝি সময়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের ভুল কাজে লাগিয়ে স্বাগতিক ফরোয়ার্ড হুলিয়ান কিনিয়োনেস গোল করে ১-০ ব্যবধানে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধে দক্ষিণ আফ্রিকা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ৬০তম মিনিটের কাছাকাছি সময়ে সরাসরি লাল কার্ড দেখে তাদের মিডফিল্ডার স্ফেফেলো সিথোলে মাঠ ছাড়েন। দশজন নিয়ে খেলা চালিয়ে যেতে হয় দলটিকে।
৬৬ মিনিটে মাঠে নামেন বিশ্বকাপ ইতিহাসে মেক্সিকোর সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় ১৭ বছর ২৪০ দিন বয়সী গিলবার্তো মোরা। পরের মিনিটে মেক্সিকোকে দ্বিতীয় গোল এনে দেন রাউল হিমিনেজ। এরপর ৮৪ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার থেম্বা জেওয়ানেও লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ম্যাচের বাকি সময়ে বলতে গেলে দক্ষিণ আফ্রিকা খেলেছে মিডফিল্ডার ছাড়াই। ম্যাচের শেষ দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা নেমে যায় নয়জন খেলোয়াড়ে।
সংখ্যাগত সুবিধা থাকলেও মেক্সিকো আর গোল বাড়াতে পারেনি। যোগ করা সময়ে মন্তেস ফাউল করে লাল কার্ড দেখায় মেক্সিকানদের আনন্দ কিছুটা হলেও মাটি হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে ব্যবধান সীমিত রাখেন। শেষ পর্যন্ত ২-০ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
ম্যাচ শেষে মেক্সিকোর কোচ বলেন, উদ্বোধনী ম্যাচে জয় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল এবং দল পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলেছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার কোচ দুইটি লাল কার্ডকে ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা প্রকাশ করেন।
এই ফলাফলে গ্রুপ পর্বে ভালো অবস্থানে শুরু করল মেক্সিকো। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে টিকে থাকতে হলে জয়ের বিকল্প নেই।