সনের নিস্প্রভ দিনে চেকিয়াকে হারিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু

যোগ্য দল হিসেবেই ম্যাচ জিতেছে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে পুরো ম্যাচের চিত্র বলছে, ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত। কৌশল, শারীরিক লড়াই ও ম্যাচের গতি— সব মিলিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও চেক রিপাবলিকের লড়াই ছিল দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ।

ম্যাচের শুরু থেকেই দক্ষিণ কোরিয়া বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে তুলতে চেয়েছে। তাদের লক্ষ্য ছিল বিল্ডআপের মাধ্যমে খেলার ছন্দ তৈরি করা এবং মাঠজুড়ে দৃষ্টিনন্দন ফুটবল উপহার দেওয়া। বিপরীতে চেক রিপাবলিক শুরু থেকেই প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, সুযোগ পেলেই দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে যাওয়া এবং শারীরিক সক্ষমতা কাজে লাগানো ছিল তাদের প্রধান পরিকল্পনা।

মেক্সিকোর গরম ও আর্দ্র আবহাওয়াও ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ম্যাচে হাইড্রেশন ব্রেক পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে চেকদের কৌশল ছিল দক্ষিণ কোরিয়াকে বেশি সময় বলের দখলে রেখে ধীরে ধীরে ক্লান্ত করে ফেলা। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা উচ্চমাত্রার শারীরিক ফুটবল খেলেছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ডায়মন্ড ও ট্রায়াঙ্গুলার পাসিং কাঠামোকে ম্যান-মার্কিংয়ের মাধ্যমে বারবার ভেঙে দিয়েছে।

এতে দক্ষিণ কোরিয়ার স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হতে থাকে। দীর্ঘ সময় তারা কার্যকর পাল্টা কৌশলও খুঁজে পাচ্ছিল না।

এই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার সবচেয়ে বড় হতাশার নাম হতে পারতেন দলের তারকা সন হিউং-মিন। এক পর্যায়ে একেবারে ওয়ান-অন-ওয়ান অবস্থান থেকেও তিনি গোলরক্ষকের গায়ে বল মেরে নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট করেন। পুরো ম্যাচেই তাকে খুব একটা প্রভাব ফেলতে দেখা যায়নি।

অন্যদিকে চেক রিপাবলিক পরিকল্পিতভাবে উচ্চতার সুবিধা কাজে লাগিয়েছে। থ্রো-ইন থেকে পাওয়া হেডের গোলটি হঠাৎ মনে হলেও সেটির পেছনে পরিকল্পনার ছাপ ছিল স্পষ্ট। শারীরিক উচ্চতা ও এরিয়াল সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে তারা দক্ষিণ কোরিয়ার রক্ষণকে চাপে রেখেছে। পরে একই ধরনের আরেকটি গোলও প্রায় পেয়ে যায় চেকরা, যদিও ভিএআরে তা বাতিল হয়। সেই সিদ্ধান্ত না এলে ম্যাচের ফল ভিন্নও হতে পারত।

তবে ম্যাচের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত তৈরি করেছে দক্ষিণ কোরিয়াই।

মাঝমাঠ থেকে গড়ে ওঠা এক আক্রমণে বল সামনে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। সেই বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে হোয়াং ইন-বম দুর্দান্ত বডি মুভমেন্টে একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে চিপ শটে গোল করেন। পুরো আক্রমণটি ছিল দলীয় ফুটবল ও ব্যক্তিগত দক্ষতার অসাধারণ উদাহরণ।

ম্যাচের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে কোচের সিদ্ধান্তে। নিস্প্রভ সনকে তুলে ফ্রেশ লেগ হিসেবে অহ হিয়ন-গুকে মাঠে নামানো হয়। পরিবর্তনের কিছুক্ষণ পরই দক্ষিণ কোরিয়া ফল পায়। হোয়াংয়ের তৈরি করা সুযোগ থেকে অহ হিয়ন-গু গোল করেন। ডিফেন্ডারের চাপের মধ্যেও ভারসাম্য ধরে রেখে নেওয়া শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে জালে জড়ায়।

শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করে দেয় দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ।

দিনের শেষে ম্যাচসেরা হওয়ার দাবিদার ছিলেন হোয়াং ইন-বম। শুধু গোল ও অ্যাসিস্ট নয়, পুরো ম্যাচে তার উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে প্রভাবশালী। সনের নিস্তেজ দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার আক্রমণ ও সৃজনশীলতার বড় ভরসা হয়ে ওঠেন এই মিডফিল্ডার।

এশিয়ার প্রতিনিধিদের জন্য এটি ছিল আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর এক জয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *