বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)-এর বাংলাদেশে সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, এমপি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস কোকো এইচ. উশিয়ামা প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ডব্লিউএফপি-এর দীর্ঘদিনের সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাতে শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ডব্লিউএফপি-এর দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বিশেষ করে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ডব্লিউএফপি-এর চলমান খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সম্পদ সংকটের মধ্যেও রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের স্কুল মিল কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপি-এর অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি সরকারের পরিবেশবান্ধব কৃষি উন্নয়ন উদ্যোগ এবং দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা করেন। পাশাপাশি সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিবার কার্ড কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপি-এর সহযোগিতা কামনা করেন।
বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্জনে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সাক্ষাতে ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো এইচ. উশিয়ামা বলেন, ক্ষুধার মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ক্ষেত্রে সৃষ্ট ঝুঁকি কমাতে ডব্লিউএফপি কাজ করছে।
তিনি জানান, নারী ও শিশুসহ ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় ডব্লিউএফপি বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনা করছে। বর্তমানে খুলনা বিভাগ ও হবিগঞ্জে ডব্লিউএফপি-এর কার্যক্রম, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ভূমিকম্প প্রস্তুতি কার্যক্রম নিয়েও তিনি আলোচনা করেন।
উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও ডব্লিউএফপি-এর অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে। তারা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গঠনে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।