রোদ, বৃষ্টি কিংবা তীব্র গরম—কোনো কিছুই থামাতে পারে না বাসু দাসকে। সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে প্রতিদিনই তিনি ছুটে চলেন জীবিকার সন্ধানে। কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়, ফৌজদারি আদালত ও আদালতপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে মৌসুমি কাঁচা আম, জাম্বুরা ও আমড়ার ভর্তা বিক্রি করে দুই সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারের চাকা সচল রেখেছেন এই সংগ্রামী মানুষ।
৪০ বছর বয়সী বাসু দাস নগরীর ধর্মপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। সীমিত আয়ের এই মানুষটির জীবনের প্রতিটি দিনই যেন সংগ্রামের আরেকটি অধ্যায়। তবুও দমে যাননি তিনি। সততা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে নিজের ভাগ্য বদলের লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন নিরন্তর।
প্রতিদিন ভোরে ঘুম থেকে উঠে বাজার থেকে মৌসুমি ফল সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর নিজ হাতে মশলা মিশিয়ে তৈরি করেন কাঁচা আম, জাম্বুরা ও আমড়ার মুখরোচক ভর্তা। ছোট ছোট পাত্রে সাজিয়ে তা নিয়ে বেরিয়ে পড়েন শহরের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে। আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে তার ভর্তার বেশ কদর রয়েছে।
বাসু দাস বলেন, “আমার দুই সন্তান। তাদের লেখাপড়া, খাবার, পোশাক আর বাসা ভাড়ার খরচ এই ভর্তা বিক্রির আয় থেকেই চালাতে হয়। আয় খুব বেশি নয়, কিন্তু চেষ্টা করি সৎভাবে সংসার চালাতে। কারও কাছে হাত পাততে চাই না।”
কথা বলতে বলতে তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে জীবনের কঠিন বাস্তবতার গল্প। তিনি জানান, কখনো বিক্রি ভালো হয়, আবার কখনো দিন শেষে হাতে তেমন কিছুই থাকে না। তারপরও পরিবারের মুখের হাসিই তাকে নতুন করে পথ চলার শক্তি জোগায়।
“দিন শেষে সন্তানদের মুখে হাসি দেখলে সব কষ্ট ভুলে যাই। তাদের মানুষ করার স্বপ্নই আমাকে প্রতিদিন নতুন করে কাজ করার সাহস দেয়,”—বলছিলেন বাসু দাস।
স্থানীয় ক্রেতাদের অনেকেই জানান, বাসু দাসের ভর্তার স্বাদ যেমন ব্যতিক্রমী, তেমনি তার ব্যবহারও আন্তরিক। ফলে নিয়মিত অনেকেই তার কাছ থেকে ভর্তা কিনে থাকেন। তাদের মতে, কঠোর পরিশ্রম আর সততার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা বাসু দাস সমাজের জন্য এক অনুকরণীয় উদাহরণ।
অভাব-অনটন, অনিশ্চয়তা আর জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও হার মানেননি বাসু দাস। ছোট্ট এই ভর্তা বিক্রির ব্যবসার মধ্য দিয়েই তিনি শুধু সংসারের হাল ধরেননি, বরং প্রমাণ করেছেন—পরিশ্রম, আত্মসম্মান ও দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি থাকলে সংগ্রামের পথও একদিন সফলতার গল্প হয়ে উঠতে পারে।