বিশ্বকাপ শুরুর মাত্র পাঁচ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পাওয়ায় ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের রেফারি প্যানেল থেকে বাদ পড়েছেন সোমালিয়ার আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আরতান। ঘটনাটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হতাশা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরতান বলেন, বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করা ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। চার বছরের প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণের পরও সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।
তিনি বলেন, “আমি খুবই হতাশ। আমি শুধু একজন রেফারি, যে নিজের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা করছিল। বিশ্বকাপে আসা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।”
আরতানের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার (৫ই জুন) তিনি মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মার্কিন সীমান্ত কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে। পরে তাকে একটি ব্যক্তিগত পরিদর্শন কক্ষে নিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, তাঁর কাছে বৈধ ভিসাসহ সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছিল। তবুও কর্মকর্তারা তাঁর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, পেশাগত ইতিহাস এবং সোমালিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে উগ্রপন্থী সংগঠন আল-শাবাব সম্পর্কেও বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়।
আরতানের দাবি, পুরো সাক্ষাৎকার ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া প্রায় ১১ ঘণ্টা স্থায়ী হয়। পরে তাকে একটি অস্থায়ী আটক কক্ষে রাখা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তুরস্কের ইস্তাম্বুলগামী একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। কেন তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা তাকে জানানো হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এক বিবৃতিতে জানায়, বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ অনুমোদনের সিদ্ধান্ত পৃথকভাবে নেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, আরতানকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল, যা তাদের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ।
সিবিপির ভাষ্য অনুযায়ী, যাচাই-বাছাইয়ের সময় চিহ্নিত নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য “গ্রহণযোগ্য” বলে বিবেচনা করা হয়নি। তবে সেই উদ্বেগের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সাক্ষাৎকারে আরতান বলেন, তাঁর ধারণা যুক্তরাষ্ট্রের মূল সমস্যা তাঁর দেশ সোমালিয়াকে ঘিরেই। তিনি জানান, ঘটনার পর তিনি ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশুতে ফিরে যাবেন।
বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের জন্য গত চার বছর ধরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আরতান। এ সময় তিনি কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফিফার বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
এই ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন সোমালিয়ার নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভ্রমণ ও ভিসা নীতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে।
ফিফা এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ওমর আরতান বিশ্বকাপের রেফারি দল থেকে চূড়ান্তভাবে বাদ পড়েছেন। তবে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য বিশেষ অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে মার্কিন সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংস্থাটি বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
আরতান জানান, তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবি থেকে। সেখানে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। পরে ইস্তাম্বুল হয়ে মায়ামিতে পৌঁছান। বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত রেফারিদের নিয়ে ফিফার প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাঁর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিমানবন্দরে আটকে যাওয়ার পর সেই যাত্রার সমাপ্তি ঘটে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় এখন হতাশা নিয়েই দেশে ফিরছেন সোমালিয়ার এই আন্তর্জাতিক রেফারি।