প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব ড. সালেহ শিবলীর সঙ্গে মতবিনিময় সভা আয়োজন করেছে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব। “এ কনভারসেশন উইথ সালেহ শিবলী, দ্য প্রেস সেক্রেটারী টু দ্য প্রাইম মিনিস্টার অফ বাংলাদেশ” শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলা ভাষার সংবাদমাধ্যমগুলোর জ্যেষ্ঠ সম্পাদক, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন।
পূর্ব লন্ডনে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে উপস্থিতির সংখ্যা এবং অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ থেকেই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বক্তারা বলেন, ড. সালেহ শিবলী বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হলেও দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, প্রবাসজীবন এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তিনি অনেকের কাছে পরিচিত ও আপনজন।
আলোচনায় বক্তারা ড. শিবলীর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন, সাংগঠনিক নেতৃত্ব, সৃজনশীল উদ্যোগ এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, একাডেমিক জ্ঞান, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং প্রবাস থেকে বাংলাদেশের বাস্তবতাকে দেখার সুযোগ তাকে আরও পরিণত ও প্রজ্ঞাবান করে তুলেছে।
নিজের বক্তব্যে ড. সালেহ শিবলী সাংবাদিকতার সামাজিক দায়িত্ব, ইতিবাচক সংবাদ পরিবেশন এবং মূল্যবোধভিত্তিক সংবাদচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকরা চাইলে গুজব, বিভ্রান্তি, অপপ্রচার এবং নেতিবাচকতার বিপরীতে সমাজের জন্য উপকারী ও অনুপ্রেরণামূলক বিষয়গুলোকে সামনে নিয়ে আসতে পারেন।
তিনি ভাইরাল কনটেন্টের প্রভাব, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ভুল তথ্য প্রচার, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ভুক্তভোগীর ছবি প্রকাশের নৈতিকতা এবং সংবাদের পেছনের বাস্তবতা অনুসন্ধানের গুরুত্ব নিয়েও কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সাফল্য ও সম্ভাবনার গল্পগুলো আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান।
মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন তিনি। আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্যান্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ, স্বাধীন প্রেস কমিশনের কার্যকারিতা, যুক্তরাজ্যে কর্মরত প্রেস কর্মকর্তাদের প্রটোকল, প্রবাসী মুক্তিযুদ্ধ সংগঠকদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, প্রবাসীদের মামলা-সংক্রান্ত হয়রানি এবং সংবাদ প্রকাশের নৈতিকতা।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া একাধিক সাংবাদিক ও প্রবাসী প্রতিনিধি শিক্ষকদের মর্যাদা ও কল্যাণের বিষয়টিও তুলে ধরেন। তারা শিক্ষকদের প্রতি সম্মান ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত সংবাদকর্মীদের জন্য ইতিবাচক, উন্নয়নমূলক এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সংবাদ বিনিময়ের একটি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়ার দাবিও অনুষ্ঠানে উত্থাপিত হয়। ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন বলেন, দেশের বাইরে বাংলা গণমাধ্যমকর্মীদের অন্যতম বৃহৎ ও প্রাচীন সংগঠন হিসেবে লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও কমিউনিটি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এ প্রসঙ্গে ড. সালেহ শিবলী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ার জন্য নির্ধারিত নীতিমালা ও প্রক্রিয়া রয়েছে। সে অনুযায়ী আবেদন করা হলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।
ক্লাবের সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হোসেইন। উপস্থিতির চাপের কারণে অনেককে হলের বাইরে অবস্থান করতে হলেও অনুষ্ঠানের উন্মুক্ত পরিবেশ এবং প্রশ্ন করার সুযোগ নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সন্তোষ দেখা যায়।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি মুহিব চৌধুরী, প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাসন, সাবেক সভাপতি সৈয়দ নাহাস পাশা, মোহাম্মদ বেলাল আহমেদ, মোহাম্মদ এমদাদুল হক চৌধুরী ও মোহাম্মদ জুবায়ের, সাবেক সহ-সভাপতি রহমত আলী ও তাইছির মাহমুদ এবং কোষাধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি ব্যারিস্টার তারেক চৌধুরী ভবিষ্যতেও এ ধরনের আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান।