রইদ’ শুধু সিনেমা নয়, মানুষের অনুভূতির গভীর গল্প

বাংলা চলচ্চিত্র ‘রইদ’ মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।  দর্শকদের মতে, ‘রইদ’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং মানুষের সম্পর্ক, ভালোবাসা এবং অনুভূতির গভীরতম স্তরকে স্পর্শ করার একটি শিল্পকর্ম।

দর্শকরা জানান, ছবির ট্রেলার দেখার পর থেকে অনেকেই সিনেমাটি দেখার সিদ্ধান্ত নেন। মুক্তির পর প্রথম দিকের কিছু নেতিবাচক মন্তব্য দেখলেও পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমনের কাজের প্রতি আস্থা রেখেই হলে গিয়ে তারা সিনেমাটি দেখেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সিনেমাটি উপভোগ করার পর, পুরো চলচ্চিত্রটি অনেককেই গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।

মানুষের সম্পর্ক কোনো সাধারণ বিষয় নয়। মানুষ যুগ যুগ ধরে অনুভূতির মধ্য দিয়েই নিজেকে টিকিয়ে রেখেছে, প্রিয়জনকে আগলে রেখেছে এবং তাদের প্রতি নিজের মমত্ব প্রকাশ করেছে। ‘রইদ’ সেই অনুভূতিরই এক নির্মম অথচ সুন্দর প্রকাশ।

চলচ্চিত্রটির কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘পাগলী’। যে নিজের নাম, পরিচয় কিংবা গ্রামের নাম পর্যন্ত মনে রাখতে পারে না। গল্পের আরেক চরিত্র সাধুর সঙ্গে তার সম্পর্ক ধীরে ধীরে এমন এক আবেগের জায়গায় পৌঁছায়, যেখানে বিচ্ছেদ ও হারিয়ে যাওয়ার বেদনা দর্শকের মনেও গভীর প্রভাব ফেলে।

বিশেষ করে একটি দৃশ্যের কথা উল্লেখ না করলেই নয়, যখন সাধু ঘুম থেকে উঠে দেখে পাগলী তার পাশে নেই, তখন তার অসহায় চিৎকার ও খোঁজার দৃশ্য দর্শকদের ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ করে তোলে। কারণ, সে জানেই না কোন নামে ডাকবে তাকে। এই মুহূর্তটি দর্শকের হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে।

নূর ইমরান ও নাজিফা তুষি, দুজন শিল্পীই নিজেদের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অভিনয় উপহার দিয়েছেন। পাশাপাশি চিত্রনাট্য, সংলাপ, ক্যামেরার কাজ, সাউন্ড ডিজাইন, সম্পাদনা, রঙের ব্যবহার, আর্ট ডিরেকশন এবং সংগীত—সব ক্ষেত্রেই নির্মাতারা উচ্চমানের কাজ করেছেন।

সিনেমার গান নিয়েও প্রশংসা করেছেন দর্শকরা। বিশেষ করে “মন ছাড়া কি মনের মানুষ রয়” এবং “রইদে আইলা গা জুড়াইতে” গান দুটি  ছবির আবেগকে আরও গভীর করেছে বলে তারা উল্লেখ করেন।

দর্শকের বিশ্বাস, ‘রইদ’ ভবিষ্যতেও আলোচনায় থাকবে এবং বাংলা চলচ্চিত্রের গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হবে। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ছবিটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসা অর্জন করতে পারে।

‘রইদ’ এমন একটি চলচ্চিত্র, যা দর্শককে শুধু গল্প দেখায় না; বরং নিজের ভেতরের অনুভূতির মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *