জাপানি প্রযুক্তির VHT প্ল্যান্ট চালু

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাপানি প্রযুক্তিনির্ভর ভ্যাপর হিট ট্রিটমেন্ট (VHT) প্রযুক্তির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের আমসহ বিভিন্ন তাজা ফল আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রযুক্তি চালুর ফলে বাংলাদেশের ফল রপ্তানি খাতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা জানান, অত্যাধুনিক এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে আম রপ্তানি করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং অন্যান্য উন্নত দেশের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে VHT গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুধু VHT মেশিনের মূল্যই প্রায় ১১ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ফলে এটি দেশের ফল রপ্তানি অবকাঠামোতে একটি বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

VHT বা ভ্যাপর হিট ট্রিটমেন্ট হলো ফলের জন্য একটি বিশেষ জীবাণুমুক্তকরণ ও কীটনাশকবিহীন নিরাপত্তা প্রক্রিয়া। আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির আগে ফলের ভেতরে থাকা ফলমাছি বা অন্যান্য ক্ষতিকর পোকার ডিম ও লার্ভা ধ্বংস করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

এই পদ্ধতিতে আম, পেঁপে, ড্রাগন ফলসহ বিভিন্ন তাজা ফলকে একটি বিশেষ চেম্বারের ভেতরে রাখা হয়। সেখানে ৪২ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় উচ্চ আর্দ্রতাযুক্ত গরম বাষ্পের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ফলগুলোকে রাখা হয়।

গরম জলীয় বাষ্প ফলের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি করে। এতে ফলের ভেতরে থাকা পোকার ডিম ও লার্ভা ধ্বংস হয়ে যায়। তবে ফলের স্বাদ, গুণগত মান ও সতেজতা অক্ষুণ্ন থাকে।

বিশ্বের অনেক দেশ তাজা ফল আমদানির ক্ষেত্রে কঠোর কোয়ারেন্টিন ও ফাইটোস্যানিটারি শর্ত আরোপ করে। এসব দেশের বাজারে ফল রপ্তানির জন্য VHT সনদ বাধ্যতামূলক।

প্রতিটি রপ্তানি চালানের জন্য আলাদাভাবে VHT সার্টিফিকেশন তৈরি হয়। এর মাধ্যমে আমদানিকারক দেশ নিশ্চিত হতে পারে যে ফলগুলো ক্ষতিকর পোকামাকড়মুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে প্রস্তুত করা হয়েছে।

কৃষি ও রপ্তানি খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, VHT প্রযুক্তি চালুর ফলে বাংলাদেশের আম আন্তর্জাতিক বাজারে আরও গ্রহণযোগ্যতা পাবে। একই সঙ্গে দেশের ফল রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং নতুন বাজার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তারা বলেন, বাংলাদেশে উৎপাদিত উচ্চমানের আমের চাহিদা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রয়েছে। এখন আন্তর্জাতিক মানের প্রক্রিয়াকরণ সুবিধা যুক্ত হওয়ায় সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার পথ আরও সহজ হলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *