রাজধানীর মিরপুরে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল এবং তার সহযোগী স্ত্রীকে ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, প্রধান আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সমসাময়িক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সংঘটিত প্রতিটি “জঘন্য অপরাধে” পুলিশ দ্রুত ও পেশাদার পদক্ষেপ নিয়েছে। তার ভাষায়, “কোনো ঘটনার ক্ষেত্রেই ব্যত্যয় হয়নি।”
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন দুই ধরনের কৌশলে কাজ করছে— “প্রো-অ্যাক্টিভ” এবং “রি-অ্যাক্টিভ”। মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমনে আগাম অভিযান চালানো হচ্ছে যাতে অপরাধ সংঘটিত না হয়। অন্যদিকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো ঘটনায় দ্রুত আসামি গ্রেফতার এবং তদন্ত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলাকে নতুন করে তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া কলেজছাত্রী তনু হত্যা মামলা। তিনি বলেন, এ মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলছে। আরও একজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া কুমিল্লার সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, বগুড়ায় তরুণী ধর্ষণ, কাপাসিয়ায় পাঁচ খুন এবং ঢাকার মান্ডায় প্রবাসী হত্যার ঘটনায় জড়িতদেরও গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান ও ব্লক রেইড অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। মে মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে মোহাম্মদপুর, শেরেবাংলা নগর ও আদাবর এলাকায় তল্লাশি চলছে।
গত ১৮ ও ১৯ মে যাত্রাবাড়ী ও তেজগাঁও এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মোট ১০৪ জন ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ও ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় র্যাব-১৫ এর বিশেষ অভিযানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আইন সংস্কার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইন সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে জনমতের চাপ বা সাময়িক ক্ষোভের কারণে তড়িঘড়ি করে নতুন আইন বা বিশেষ আদালত গঠন করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন “অবিচার” না হয় এবং কঠোর আইনের অপব্যবহার না ঘটে, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। নতুন ট্রাইব্যুনাল তৈরির পরিবর্তে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষেও মত দেন তিনি।