ফিঙ্গারপ্রিন্ট শনাক্তকরণ পদ্ধতির পথিকৃৎ কাজি আজিজুল হককে স্মরণ

বিশ্বব্যাপী অপরাধী শনাক্তকরণে ব্যবহৃত ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পদ্ধতির অন্যতম উদ্ভাবক খান বাহাদুর কাজি আজিজুল হক-এর ৯১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকায় এক স্মরণসভা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯শে মে ) বিকেলে সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ইতিহাসের পাঠশালা (দি একাডেমি অব হিস্ট্রি)।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির পরিচালক ও সম্পাদক সোহেল মো. ফখরুদ-দীন। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট আইনবিদ ও সমাজসেবক আলেয়া বেগম লাকী।

মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সৈয়দ খায়রুল আলম। গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গবেষক ডা. মআআ মুক্তাদীর।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রবীণ আইনবিদ কেএম আশরাফ, গবেষক সৈয়দ সরোয়ার আলম, কবি ও সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম, কবি মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, আবুল হোসেন মুরাদ এবং সাংবাদিক রিয়াদ মাহমুদ খান।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, কাজি আজিজুল হক ছিলেন উপমহাদেশের এক অসাধারণ মেধাবী বাঙালি। তাঁর উদ্ভাবিত “হেনরি ক্লাসিফিকেশন সিস্টেম” আধুনিক ফরেনসিক বিজ্ঞানে যুগান্তকারী অবদান রেখেছে। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এই পদ্ধতির উন্নত সংস্করণ ব্যবহার করছে।

তাঁরা বলেন, ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল পুলিশে কর্মরত অবস্থায় কাজি আজিজুল হক আঙুলের ছাপ শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতিকে কার্যকর ও ব্যবহারযোগ্য রূপ দেন। পরে এটি “হেনরি সিস্টেম” নামে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায়। তবে ইতিহাসে তাঁর অবদান অনেকাংশেই আড়ালে থেকে গেছে।

বক্তারা আরও বলেন, কাজি আজিজুল হকের জীবন ও কর্ম নিয়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে গবেষণা প্রয়োজন। তাঁর অবদান পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। পাশাপাশি তাঁর স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণ এবং জাতীয় পর্যায়ে যথাযথ স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিও জানান তাঁরা।

সভাপতির বক্তব্যে সোহেল মো. ফখরুদ-দীন বলেন, “খান বাহাদুর কাজি আজিজুল হক কেবল একজন গণিতবিদ বা পুলিশ কর্মকর্তা নন। তিনি আধুনিক অপরাধবিজ্ঞান ও ফরেনসিক বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। নতুন প্রজন্মের সামনে তাঁর অবদান তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *